Tuesday, December 29, 2020

আমারতো ‘ঈমান’ ঠিক আছে !


 || আমারতো ‘ঈমান’ ঠিক আছে...!||

- ‘ঈমান’ অর্থ বিশ্বাস যেটা ছোট বেলা থেকেই শিখেছি জেনেছি।মূলত ‘ঈমান’ অর্থ বিশ্বাস নয়, স্বীকৃতি প্রদান করা।কিছু ভাষাবিদের ভুলের কারনে এই অর্থবদল হয়েছে।‘ঈমান’ শব্দটির অর্থ বোঝা যাবে যদি আমরা বিপরীত শব্দটির অর্থ চিন্তা করি।
- ‘ঈমান’ এর বিপরীত শব্দ ‘কুফর’--যার অর্থ অস্বীকার করা।অর্থ্যাৎ ইসলামের কোনো একটি বিধিবিধান অস্বীকার করা,অমান্য করা, স্বীকৃতি প্রদান না করা।
- ‘কুফর’ এর বিপরীত শব্দ ‘ঈমান’--যার অর্থ স্বীকার করা বা স্বীকৃতি প্রদান করা।অর্থ্যাৎ ইসলামের মৌলিক বিষয় সমূহহকে মনে প্রাণে দৃঢ় বিশ্বাস করা,স্বীকার করা এবং কর্মেও তা পালন করা যার সম্পূর্ণ অর্থবহন করে স্বীকৃতি প্রদান করা।সুতারাং বিশ্বাস ঈমানের একটি অংশ।ঈমানের একক অর্থ বিশ্বাস নয়।
▪️ঈমানের তিনটি অংশ–
১. অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা,
২. মুখে স্বীকার করা;
৩. কর্মের মাঝে বিশ্বাস এবং স্বীকারের প্রমাণ স্থাপন করা।
‘ঈমান’ শব্দটির সাথে নিরাপত্তা জড়িত আছে।
অর্থ্যাৎ ‘ঈমান’ হলো এমন একটি বিশ্বাস যেটি দৃঢ়ভাবে অন্তরে ধারন করা,মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কর্মে তার প্রমান দেওয়া।এর মাধ্যমে কোনো মুসলিম আর কুফরিতে ফিরে যাবেনা এই নিরাপত্তা দিচ্ছে।
◾ অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা,মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কর্মে তার প্রমান দেওয়া,এই তিনটি বিষয় যেখানে থাকবেনা সেটিকে ঈমান বলা যাবেনা।ঈমানের একটি অংশ আছে এমমটাই বলতে হবে।এটি হলো ঈমানের আভিধানিক সজ্ঞা।
◾ঈমানের ৭০ টি শাখা রয়েছে,এগুলো এক পর্যায়ের বা একই মানের নয়,যদি ৭০ টি শাখা একই পর্যায়ের হতো এবং একই মানের হতো তাহলে এর অর্থ বোঝায় ৭০ টি শাখার মাঝে যেকোনো একটি না আমল করলেই সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে অর্থ্যাৎ ‘কাফের ‘ এ পরিণত হবে।যেই কথাটি একেবারেই ভুল এবং জাহেলি কথা।
- ঈমানের শাখাগুলোর যে মান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রধান উপকেন্দ্র হলো সালাত।সালাতকে ঈমানের প্রধান শাখা বলা হয়েছে,ঈমানের পরিচয় হলো সালাত।যে সালাত আদায় করল সে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেই সালাত আদায় করল।অর্থ্যাৎ সে প্রথমে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, মুখে স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, সে সালাত আদায় করে তাছাড়া কর্মেও পালন করছে এবং তার প্রমাণ দিচ্ছে সালাত আদায়ের মাধ্যমে।বাকি শাখাগুলো কিছু মুসলিম স্বীকার করে কিন্তুু কর্মে পালন করতে পারেনা বা প্রমাণ করতে পারেনা,অর্থ্যাৎ ব্যাক্তির ‘ঈমান’ পরিপূর্ণ নয় ঈমানে ঘাটতি আছে।আবার অনেকেই আছে সবকিছুই স্বীকার করে,বিশ্বাস করে কিন্তুু সালাত আদায় সহ ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান মেনে চলেনা।কিন্তু বলে বেড়ায় আমারতো ‘ঈমান’ ঠিক আছে অথচ তার ‘ঈমান’ অত্যান্ত দুর্বল এবং অপরিপূর্ণ।
▪️ সুতারাং,
ফরজ, সুন্নাত, ইসলামের বিধিবিধান না মেনেই যারা বলেন আমার ঈমান ঠিক আছে তারা নিজেদেরকেই নিজেরা ধোঁকা দিচ্ছেন, হয়তো আপনার কাছে ঈমানের একটা ছোট ক্ষুদ্র অংশ আছে,যা অত্যান্ত দুর্বল, ক্ষুদ্র, অপরিপূর্ণ।মজবুত ঈমানের পর্যায়ও সময়ের ব্যাবধানে উঠা- নামা করে,কখনো কখনো ‘ঈমান’ দুর্বল হয়ে যায়,আবার ঈমানকে নতুনভাবে মজবুত,ধারালো এবং তীক্ষ্ণ করতে হয়।একজন পরিপূর্ণ ঈমানদারকেও 'ঈমান’ ঠিক রাখার জন্য ইসলামের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়।এতকিছুর পরও ভয় থাকে সে যেনো ‘ঈমান’ হারা না হয়ে যায়,‘ঈমান’ যেনো যেকোনো অনুকূল পরিস্থিতিতে দুর্বল না হয়ে পড়ে।
- সে জায়গায় এই অপরিপূর্ণ ঈমান নিয়ে কিভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে যান?এই অপরিপূর্ণ ‘ঈমান’ দিয়ে কিভাবে শাস্তি থেকে বাচা যাবে?হয়তো সরিষা দানা পরিমাণ ‘ঈমান ’থাকার অসিলায় একসময় শাস্তি শেষে আল্লাহর দয়ায় জান্নাত পেতে পারেন কিন্তু ততদিন পর্যন্ত কিভাবে নিজেকে পার করবেন?মৃত্যুর ভয়াবহতা,কেয়ামত পর্যন্ত হতে থাকা কবরের ভয়াবহ আযাব,হাশরের ময়দানে ভয়ংকর পরিস্থিতি, পুলসিরাত পার,শেষে জাহান্নামে প্রবেশ আর অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তিভোগ করা...পারা যাবেতো??যেখানে কিনা দুনিয়ার সামান্য মানসিক যন্ত্রণায় অন্তর বিধ্বস্ত হয়,সামান্য কাঁটাছেড়া সহ্য করার ক্ষমতা নেই,দুনিয়ার এক ফুলক্বি আগুনের তাপ সহ্য করার ক্ষমতা নেই তাহলে মৃত্যুর পর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দুনিয়ার চেয়ে হাজার গুন যন্ত্রনার শাস্তি ভোগ করবেন কি করে?এতই সোজা আখিরাতের জীবন?
- সময় থাকতে ঈমানকে পরিপূর্ণ করুন,
“আমার তো ‘ঈমান’ ঠিক আছে” এ কথাকে পুঁজি বানিয়ে আখিরাতের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে অনন্ত জীবন দুঃসহ যন্ত্রণার ভোগান্তিতে পোড়াবেননা।দুনিয়ার জীবনটা আখিরাতের তুলনায় এক অসীম সমুদ্রের মাঝে আণুবীক্ষণিক কোনো এক বালিকণার মতো যা বাতাস ছাড়াই উধাও হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়।
- মূলঃ ড.আবু বকর মোহাম্মদ জাকারিয়া
- শ্রুতিলিখনঃ ফরহাতে দিল মেহের

No comments:

Post a Comment

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...