জমাদিউল আউয়াল ( 5 নং মাস )(বাংলাদেশ)
(আগে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন তারপর কমেন্ট করুন)
___________________________________________
সাপ্তাহিক সুন্নত রোযা
প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবার ।
রাসূল সাঃ নিজে বৃহস্পতি ও সোমবার রোজা রাখতেন। তাই এদিন রোজা রাখা রাসূল সাঃ এর সুন্নত। হাদীসে এসেছে-
ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻯ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺳﺌﻞ ﻋﻦ ﺻﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻓﻘﺎﻝ « ﻓﻴﻪ ﻭﻟﺪﺕ ﻭﻓﻴﻪ ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻰ
হযরত আবু কাতাদা আনসারী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে সোমবার দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ এ দিন আমি জন্ম নিয়েছি, আর এদিনই আমার উপর [কুরআন] নাজিল হয়েছে। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৮০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-২১১৭, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-২৯২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৫৫০, সুনানে আবী দাউদ, হাদীস নং-২৪২৮}
ﻋﻦ ﺭﺑﻴﻌﺔ ﺑﻦ ﺍﻟﻐﺎﺯ ﺃﻧﻪ ﺳﺄﻝ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻋﻦ ﺻﻴﺎﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻟﺖ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﺤﺮﻯ ﺻﻴﺎﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﺍﻟﺨﻤﻴﺲ
হযরত রাবীয়া বিন গাজ রহঃ হযরত আয়শা রাঃ এর কাছে রাসূল সাঃ এর রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেনঃ রাসূল সাঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখার ব্যাপারে খুবই মনোযোগী ছিলেন। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৭৩৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৬৪৩, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-২৪৯৬, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুয়া, হাদীস নং-১৬৬৫, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৪৩৯, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৩১৫৪}
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ : ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺗﻌﺮﺽ ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ ﻳﻮﻡ ﺍﻹﺛﻨﻴﻦ ﻭﺍﻟﺨﻤﻴﺲ ﻓﺄﺣﺐ ﺃﻥ ﻳﻌﺮﺽ ﻋﻤﻠﻲ ﻭﺃﻧﺎ ﺻﺎﺋﻢ
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল উপস্থাপন করা হয় [আল্লাহর কাছে]। আর আমার আমল উপস্থাপন করার সময় রোযারত থাকাকে পছন্দ করছি। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৭৪৭, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-২৬৬৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২১৭৫৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৬১৭, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৫৪১, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৪১৯১}
বৃহস্পতি-সোমবার বান্দার আমল পেশ করা হয় :
মহান আল্লাহ তায়ালা তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। প্রত্যেক মানুষ যে ইবাদত-বন্দেগি করে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিখে রাখা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছেন। কেয়ামতের দিন বান্দাকে সেগুলো দেখানো হবে এবং তার বিচার করা হবে। কিন্তু তারপরও বান্দার আমলগুলো দৈনিক, সাপ্তাহিক, বার্ষিক ভিত্তিতে আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়। বলতে গেলে, মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবপত্রের নিয়মমাফিক উপস্থাপন করা হয়।
দৈনন্দিন আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপনের ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে, দৈনন্দিন আমলের হিসাব দুই ভাগে পেশ করা হয়। দিনের আমল রাতের শুরুতে এবং রাতের আমল দিনের শুরুতে।’ (ফয়জুল কাদির, ইমাম মুনাভি, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২৭৬)
সাপ্তাহিক আমল পেশ করা হয় সোমবার ও বৃহস্পতিবারে। হাদিসে এসেছে, এই দুই দিন রাসুল (সা.) রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তায়ালার কাছে) আমল পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যে দুই ব্যক্তির পারস্পরিক হিংসা-দ্বেষ আছে, তাদের ক্ষমা করা হয় না।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ২৫৬৫, তিরমিজি, হাদিস নং : ৭৪৭)
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজার প্রতি অধিক যত্নশীল ছিলেন। (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
অন্য হাদিসের বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সোমবার ও বৃহস্পতিবার প্রত্যেক মুসলমানের গোনাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারীর ব্যাপারে (আল্লাহ বলেন) নিজেদের মধ্যে সমঝোতার আগ পর্যন্ত এদের বাদ দাও।’ (ইবনে মাজাহ, তারগিব)
বান্দার আমল বার্ষিক ভিত্তিতে আল্লাহর কাছে পেশ করার ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন আলোচনা এসেছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘পৃথিবী তার পালনকর্তার আলোয় উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, নবীগণ ও সাক্ষীদের আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে-তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা যুমার, আয়াত নং : ৬৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন একটি কিতাব বের করে তাকে দেখাবো, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।’ (সুরা বনি ইসলাইল, আয়াত নং : ১৩-১৪)
উসামা ইবনে যায়দ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, ‘রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস । কিন্তু মানুষ এ মাসের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। এ মাসে আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। অতএব আমি চাই, আমার রোজাবস্থায় আল্লাহর কাছে আমার আমল পেশ করা হোক। (নাসাঈ)
রোজা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। তাই ফরজ রোজা ছাড়াও নফল রোজা রাখা উত্তম। এতে বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক গভীর হয়।
বৃহস্পতি ও সোমবার যেহেতু বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পৌছানো হয়; তাই সম্ভব হলে এই দুই দিন রোজা রাখায় সচেতন হওয়া উচিত।এছাড়া এটা একটা সুন্দর সুন্নত।
_________________________________________
*প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩ ১৪ ১৫ তারিখ এই তিন দিনকে আইয়ামে বীয বলা হয়। এই তিন রাতে চাঁদের আলো সবচেয়ে বেশি থাকে ( পূর্ণিমা রাত )
__________________________________________
- আযান পর্যন্ত সাহরি খাবেন না। তাহলে রোযা হবে না। সাহরি খাওয়ার শেষ সময় জেনে সাহরি খাবেন ।
-সাহরি না খেয়েও রোযা রাখা যাবে । তবে সাহরি খাওয়া সুন্নাত ও অনেক বরকতের । ইচ্ছা করে সাহরি ত্যাগ করা যাবে না ।
- বিশেষ কারণ বশত ঐ তিন দিন রোযা রাখতে না পারলে এই আরবি মাসের মধ্যেই অন্য কোন তিন দিন রাখা যাবে ।
- যাদের রমজানের রোযা কাযা আছে তারা কাযা রোযা গুলো দ্রুত রেখে দিন।
-আইয়ামে বীযের দিন বা যে কোন দিন কাযা রোযা রাখা যাবে। কিন্তু আইয়ামে বীযের রোযা ও ফরয রোযা দুই নিয়তে এক সাথে রাখা যাবে না। যে কোন একটা নিয়তে রোযা রাখতে হবে । হয় নফল না হয় কাযা।
- এ সময় পিরিয়ড চললে রোযা রাখা যাবে না। বেশি বেশি দুআ দরুদ এস্তেগফার যিকির আজকার তাসবীহ তাহলীল পড়বেন ।
- সাহরি খাওয়ার পর দিনের বেলা পিরিয়ড শুরু হলে রোযা ভেঙে যাবে। খাওয়া দাওয়া করবেন। না খেয়ে রোযা অবস্থাই থাকলে গুনাহ হবে ।
__________________________________________
* আরবি তারিখ সমস্যার সমাধান -
চাঁদ দেখে ক্যালেণ্ডার ও এপস এর তারিখ ঠিক করে নিবো ইনশাআল্লাহ । কারণ আরবী কোনো মাসের তারিখই নির্দিষ্ট নয়। প্রত্যেক আরবি মাস ২৯ দিন বা ৩০ দিন যে কোনটা হতে পারে ।
এজন্য ক্যালেণ্ডার বা এপসের তারিখ মাঝে মধ্যেই কম বেশি হতে পারে। আমাদের কাজ হলো চাঁদ কবে উঠছে তা জেনে ক্যালেণ্ডার গুলো ঠিক করে নেওয়া ।
কাগজের ক্যালেণ্ডার গুলো কলম দ্বারা লিখে ঠিক করে নেওয়া । আর এপস এর তারিখ এপস সেটিংস থেকে ঠিক করে নেওয়া । আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন ।
-গুগলের তারিখগুলোও নির্ভরযোগ্য নয়।
চাঁদ দেখা ও দুআ পড়া সুন্নাত । তাই চাঁদ দেখার সুন্নাত আমলটা করার অভ্যাস করতে হবে ।
*আইয়ামে বীয-
চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫, এই দিনগুলোকে “আইয়ামে বীয” বা আলোকিত দিনসমূহ বলা হয়। কারণ এই দিনগুলোতে চাঁদ সবচাইতে বেশি আলোকিত থাকে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম মাসের এই তিনদিন নিয়মিত রোযা রাখতেন। তাই মাসের ৩টা রোযার জন্য এই ৩ দিনকে বেছে নিলে ভালো।
*আইয়ামে বীয এর দিনগুলোর বিশেষ ফযীলত :
__________সহীহ মুসলিমঃ ৭২২, আবু দাউদঃ ১৪৩৩, আহমাদঃ ২৬৯৩৫।
___________তিরমিযীঃ ৭৬১, নাসায়ীঃ ২৪২৪, শায়খ আলবানীর মতে হাসান সহীহ, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন।
____________আবু দাউদঃ ২৪৪৯, নাসায়ীঃ ২৪৩২।
____________নাসায়ী ২৩৪৫, শায়খ আলবানীর মতে হাসান সহীহ, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন।
___________[বুখারী শরীফ (ইফা) :: হাদিস ১৮৫৭]
কেউ যদি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে তবে তা যেন সারা বছরই সিয়াম পালন করা হলো। এর সমর্থনে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে আয়াত নাযিল করলেনঃ
من جاء بالحسنة فله عشر امثالها
– (অর্থ) কেউ যদি একটি নেক কাজ করে তবে তার প্রতিদান হলো এর দশগুণ।
সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান।
__________[তিরমিযী শরিফ (ইফা) :: হাদিস ৭৬০]
হে আবূ যার! প্রতি মাসে যদি তিন দিন সিয়াম পালন করতে চাও তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের সিয়াম পালন করো।
__________[তিরমিযী শরিফ (ইফা) :: হাদিস ৭৫৯]
_______[আবু দাউদ শরিফ (ইফা) :: হাদিস ২৪৪১]
______[মুসনাদে বাযযার ১০৫৭; মুসনাদে আহমদ ২৩০৭০; সহীহ ইবনে হিববান ৬৫২৩]
__________________________________
* নোটঃ
যাদের রমজানের কাযা বা ভাঙতি রোযা আছে তারা কাযা বা ভাঙতি রোযা গুলো আগে রাখুন । রমজানের কাযা বা ভাঙতি রোযা গুলো রাখা ফরয । না রাখলে গুনাহ হবে আর এর হিসাবও দিতে হবে।
এজন্য কাযা গুলো আগে রাখুন তারপর নফল রোযা রাখবেন।
এই রোযার তারিখ হলো প্রত্যেক আরবি মাসের 13,14,15 । এটা চাঁদ দেখে হিসাব করে বের করতে হয় ইংরেজি কতো তারিখ পড়ে। ইংরেজি তারিখ ফিক্সড না। ইংরেজি যে কোন তারিখ পড়তে পারে।
এটা জানার সহজ একটা উপায় হলো দৈনন্দিন পত্রিকা দেখা । আর পারলে চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখা সুন্নাত । অনলাইন পত্রিকা দেখলেও হবে।
-গুগল বা এপস ক্যালেণ্ডারে অনেক সময় আরবি তারিখ মিলে না কম বেশি হয়। এজন্য ওগুলোর উপর ভরসা করা ঠিক হবে না। আপনারা রোযার নিয়মিত সময়সুচি পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও প্রতিদিন নামাজের সময় জানতে আমাদের গ্রুপ জয়েন করুন। আপডেট পাবেন ইনশাআল্লাহ ।
গ্রুপ লিংক -
যদি সামর্থ্য থাকে তাইলে এই তিন দিন আইয়ামে বীযের তিন টা নফল রোযা রাখবেন আর মাসের অন্যান্য দিনগুলোতে কাযা রোযা রাখবেন।
আমরা তো এখন ঘড়ির সময়ের উপর নির্ভরশীল এজন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বের করা হয়েছে যেটা সাহরির শেষ সময় বলা হয়। ফজরের আগেই সাহরি শেষ করতে হবে। সাহরির সময় জেনে নিতে হবে। এপস বা গুগল থেকে জেনে নেওয়া যাবে।
___________________
যাঝাকুমুল্লাহু খইর ।।
©সিরাতল মুস্তাকিম

No comments:
Post a Comment