Tuesday, December 29, 2020

আইয়ামে বীযের রোযা


জমাদিউল আউয়াল ( 5 নং মাস )(বাংলাদেশ)

(আগে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন তারপর কমেন্ট করুন)
___________________________________________
সাপ্তাহিক সুন্নত রোযা
প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবার ।
রাসূল সাঃ নিজে বৃহস্পতি ও সোমবার রোজা রাখতেন। তাই এদিন রোজা রাখা রাসূল সাঃ এর সুন্নত। হাদীসে এসেছে-
ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻯ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺳﺌﻞ ﻋﻦ ﺻﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻓﻘﺎﻝ ‏« ﻓﻴﻪ ﻭﻟﺪﺕ ﻭﻓﻴﻪ ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻰ
হযরত আবু কাতাদা আনসারী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে সোমবার দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ এ দিন আমি জন্ম নিয়েছি, আর এদিনই আমার উপর [কুরআন] নাজিল হয়েছে। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৮০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-২১১৭, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-২৯২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৫৫০, সুনানে আবী দাউদ, হাদীস নং-২৪২৮}
ﻋﻦ ﺭﺑﻴﻌﺔ ﺑﻦ ﺍﻟﻐﺎﺯ ﺃﻧﻪ ﺳﺄﻝ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻋﻦ ﺻﻴﺎﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻟﺖ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﺤﺮﻯ ﺻﻴﺎﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﺍﻟﺨﻤﻴﺲ
হযরত রাবীয়া বিন গাজ রহঃ হযরত আয়শা রাঃ এর কাছে রাসূল সাঃ এর রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেনঃ রাসূল সাঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখার ব্যাপারে খুবই মনোযোগী ছিলেন। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৭৩৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৬৪৩, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-২৪৯৬, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুয়া, হাদীস নং-১৬৬৫, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৪৩৯, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৩১৫৪}
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ : ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺗﻌﺮﺽ ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ ﻳﻮﻡ ﺍﻹﺛﻨﻴﻦ ﻭﺍﻟﺨﻤﻴﺲ ﻓﺄﺣﺐ ﺃﻥ ﻳﻌﺮﺽ ﻋﻤﻠﻲ ﻭﺃﻧﺎ ﺻﺎﺋﻢ
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল উপস্থাপন করা হয় [আল্লাহর কাছে]। আর আমার আমল উপস্থাপন করার সময় রোযারত থাকাকে পছন্দ করছি। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৭৪৭, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-২৬৬৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২১৭৫৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৬১৭, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৫৪১, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৪১৯১}
বৃহস্পতি-সোমবার বান্দার আমল পেশ করা হয় :
মহান আল্লাহ তায়ালা তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। প্রত্যেক মানুষ যে ইবাদত-বন্দেগি করে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিখে রাখা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছেন। কেয়ামতের দিন বান্দাকে সেগুলো দেখানো হবে এবং তার বিচার করা হবে। কিন্তু তারপরও বান্দার আমলগুলো দৈনিক, সাপ্তাহিক, বার্ষিক ভিত্তিতে আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়। বলতে গেলে, মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবপত্রের নিয়মমাফিক উপস্থাপন করা হয়।
দৈনন্দিন আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপনের ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে, দৈনন্দিন আমলের হিসাব দুই ভাগে পেশ করা হয়। দিনের আমল রাতের শুরুতে এবং রাতের আমল দিনের শুরুতে।’ (ফয়জুল কাদির, ইমাম মুনাভি, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২৭৬)
সাপ্তাহিক আমল পেশ করা হয় সোমবার ও বৃহস্পতিবারে। হাদিসে এসেছে, এই দুই দিন রাসুল (সা.) রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তায়ালার কাছে) আমল পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যে দুই ব্যক্তির পারস্পরিক হিংসা-দ্বেষ আছে, তাদের ক্ষমা করা হয় না।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ২৫৬৫, তিরমিজি, হাদিস নং : ৭৪৭)
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজার প্রতি অধিক যত্নশীল ছিলেন। (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
অন্য হাদিসের বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সোমবার ও বৃহস্পতিবার প্রত্যেক মুসলমানের গোনাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারীর ব্যাপারে (আল্লাহ বলেন) নিজেদের মধ্যে সমঝোতার আগ পর্যন্ত এদের বাদ দাও।’ (ইবনে মাজাহ, তারগিব)
বান্দার আমল বার্ষিক ভিত্তিতে আল্লাহর কাছে পেশ করার ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন আলোচনা এসেছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘পৃথিবী তার পালনকর্তার আলোয় উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, নবীগণ ও সাক্ষীদের আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে-তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা যুমার, আয়াত নং : ৬৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন একটি কিতাব বের করে তাকে দেখাবো, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।’ (সুরা বনি ইসলাইল, আয়াত নং : ১৩-১৪)
উসামা ইবনে যায়দ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, ‘রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস । কিন্তু মানুষ এ মাসের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। এ মাসে আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। অতএব আমি চাই, আমার রোজাবস্থায় আল্লাহর কাছে আমার আমল পেশ করা হোক। (নাসাঈ)
রোজা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। তাই ফরজ রোজা ছাড়াও নফল রোজা রাখা উত্তম। এতে বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক গভীর হয়।
বৃহস্পতি ও সোমবার যেহেতু বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পৌছানো হয়; তাই সম্ভব হলে এই দুই দিন রোজা রাখায় সচেতন হওয়া উচিত।এছাড়া এটা একটা সুন্দর সুন্নত।

_________________________________________
*প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩ ১৪ ১৫ তারিখ এই তিন দিনকে আইয়ামে বীয বলা হয়। এই তিন রাতে চাঁদের আলো সবচেয়ে বেশি থাকে ( পূর্ণিমা রাত )
__________________________________________
- আযান পর্যন্ত সাহরি খাবেন না। তাহলে রোযা হবে না। সাহরি খাওয়ার শেষ সময় জেনে সাহরি খাবেন ।
-সাহরি না খেয়েও রোযা রাখা যাবে । তবে সাহরি খাওয়া সুন্নাত ও অনেক বরকতের । ইচ্ছা করে সাহরি ত্যাগ করা যাবে না ।
- বিশেষ কারণ বশত ঐ তিন দিন রোযা রাখতে না পারলে এই আরবি মাসের মধ্যেই অন্য কোন তিন দিন রাখা যাবে ।
- যাদের রমজানের রোযা কাযা আছে তারা কাযা রোযা গুলো দ্রুত রেখে দিন।
-আইয়ামে বীযের দিন বা যে কোন দিন কাযা রোযা রাখা যাবে। কিন্তু আইয়ামে বীযের রোযা ও ফরয রোযা দুই নিয়তে এক সাথে রাখা যাবে না। যে কোন একটা নিয়তে রোযা রাখতে হবে । হয় নফল না হয় কাযা।
- এ সময় পিরিয়ড চললে রোযা রাখা যাবে না। বেশি বেশি দুআ দরুদ এস্তেগফার যিকির আজকার তাসবীহ তাহলীল পড়বেন ।
- সাহরি খাওয়ার পর দিনের বেলা পিরিয়ড শুরু হলে রোযা ভেঙে যাবে। খাওয়া দাওয়া করবেন। না খেয়ে রোযা অবস্থাই থাকলে গুনাহ হবে ।
__________________________________________
* আরবি তারিখ সমস্যার সমাধান -
চাঁদ দেখে ক্যালেণ্ডার ও এপস এর তারিখ ঠিক করে নিবো ইনশাআল্লাহ । কারণ আরবী কোনো মাসের তারিখই নির্দিষ্ট নয়। প্রত্যেক আরবি মাস ২৯ দিন বা ৩০ দিন যে কোনটা হতে পারে ।
এজন্য ক্যালেণ্ডার বা এপসের তারিখ মাঝে মধ্যেই কম বেশি হতে পারে। আমাদের কাজ হলো চাঁদ কবে উঠছে তা জেনে ক্যালেণ্ডার গুলো ঠিক করে নেওয়া ।
কাগজের ক্যালেণ্ডার গুলো কলম দ্বারা লিখে ঠিক করে নেওয়া । আর এপস এর তারিখ এপস সেটিংস থেকে ঠিক করে নেওয়া । আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন ।
-গুগলের তারিখগুলোও নির্ভরযোগ্য নয়।
চাঁদ দেখা ও দুআ পড়া সুন্নাত । তাই চাঁদ দেখার সুন্নাত আমলটা করার অভ্যাস করতে হবে ।
*আইয়ামে বীয-
চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫, এই দিনগুলোকে “আইয়ামে বীয” বা আলোকিত দিনসমূহ বলা হয়। কারণ এই দিনগুলোতে চাঁদ সবচাইতে বেশি আলোকিত থাকে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম মাসের এই তিনদিন নিয়মিত রোযা রাখতেন। তাই মাসের ৩টা রোযার জন্য এই ৩ দিনকে বেছে নিলে ভালো।
*আইয়ামে বীয এর দিনগুলোর বিশেষ ফযীলত :
🔹(১) আবু দরদা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “আমার প্রিয় বন্ধু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে, প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা (আইয়ামে বীজ এর ৩দিন) পালন করা, চাশতের নামায পড়া এবং বিতির না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।”
__________সহীহ মুসলিমঃ ৭২২, আবু দাউদঃ ১৪৩৩, আহমাদঃ ২৬৯৩৫।
🔹(২) আবু যর রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক মাসে (নফল) রোযা পালন করলে (শুক্লপক্ষের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পালন করো।”
___________তিরমিযীঃ ৭৬১, নাসায়ীঃ ২৪২৪, শায়খ আলবানীর মতে হাসান সহীহ, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন।
🔹(৩) ক্বাতাদাহ ইবনে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শুক্লপক্ষের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার জন্য আদেশ করতেন।”
____________আবু দাউদঃ ২৪৪৯, নাসায়ীঃ ২৪৩২।
🔹(৪) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়ীতে থাকাবস্থায় অথবা সফরে থাকাবস্থায়, কখনোই আইয়ামে বীযের রোযা ছাড়তেন না।”
____________নাসায়ী ২৩৪৫, শায়খ আলবানীর মতে হাসান সহীহ, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন।
🔹হাদিস ৫। আবূ হূরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , আমার বন্ধু (রাসূল ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন , প্রতি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা এবং দু’রাকআত সালাতুয -যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।
___________[বুখারী শরীফ (ইফা) :: হাদিস ১৮৫৭]
🔹হাদিস ৬। রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
কেউ যদি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে তবে তা যেন সারা বছরই সিয়াম পালন করা হলো। এর সমর্থনে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে আয়াত নাযিল করলেনঃ
من جاء بالحسنة فله عشر امثالها
– (অর্থ) কেউ যদি একটি নেক কাজ করে তবে তার প্রতিদান হলো এর দশগুণ।
সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান।
__________[তিরমিযী শরিফ (ইফা) :: হাদিস ৭৬০]
🔹হাদিস ৭। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বলেছিলেন,
হে আবূ যার! প্রতি মাসে যদি তিন দিন সিয়াম পালন করতে চাও তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের সিয়াম পালন করো।
__________[তিরমিযী শরিফ (ইফা) :: হাদিস ৭৫৯]
🔹হাদিস ৮। ইবন মিলহান আল-কায়সী তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদেরকে ইয়াওমিল বীয্ অর্থাৎ চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। তিনি (ইবন মালহান) বলেন, তিনি বলেছেনঃ এ রোযাগুলোর মর্যাদা (ফযীলত) সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য।
_______[আবু দাউদ শরিফ (ইফা) :: হাদিস ২৪৪১]
🔹হাদিস ৯। হযরত ইবনে আববাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, সবরের মাসের (রমযান মাস) রোযা এবং প্রতি মাসের তিন দিনের (আইয়্যামে বীয) রোযা অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়।
______[মুসনাদে বাযযার ১০৫৭; মুসনাদে আহমদ ২৩০৭০; সহীহ ইবনে হিববান ৬৫২৩]
🔹হাদিস ১০। হযরত হাফসা (রাঃ) বর্ণনা করেন, “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা এবং প্রতি মাসের তিন রোযা কখনো ছাড়তেন না।” _________–মুসনাদে আহমাদ ২৫৯২০
__________________________________
* নোটঃ
যাদের রমজানের কাযা বা ভাঙতি রোযা আছে তারা কাযা বা ভাঙতি রোযা গুলো আগে রাখুন । রমজানের কাযা বা ভাঙতি রোযা গুলো রাখা ফরয । না রাখলে গুনাহ হবে আর এর হিসাবও দিতে হবে।
এজন্য কাযা গুলো আগে রাখুন তারপর নফল রোযা রাখবেন।
🔹1) রোযা 3 টা রাখাই সুন্নাত । 1,2 টা রাখলে সোওয়াব কম হবে । তবে যারা 3 টা পারবেন না তারা 1, 2 টা রাখবেন আর চেষ্টা করবেন 3 টাই রাখার।
🔹2) আরবি মাসের 13,14,15 এই তিন দিন রাখাই উত্তম । যদি কারো কোন বিশেষ কারণে ( পিরিয়ড বা অন্য কিছু ) ঐ তিন দিন সম্ভব না হয় তাহলে ঐ মাসের মধ্যেই অন্য কোন দিন রেখে দিবেন।
🔹3) পোষ্ট পড়ুন। দেখুন আরবি তারিখ ও ইংরেজি তারিখ দেওয়া আছে। ঢাকা জেলার সাহরির শেষ সময়ও দেওয়া আছে।
এই রোযার তারিখ হলো প্রত্যেক আরবি মাসের 13,14,15 । এটা চাঁদ দেখে হিসাব করে বের করতে হয় ইংরেজি কতো তারিখ পড়ে। ইংরেজি তারিখ ফিক্সড না। ইংরেজি যে কোন তারিখ পড়তে পারে।
এটা জানার সহজ একটা উপায় হলো দৈনন্দিন পত্রিকা দেখা । আর পারলে চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখা সুন্নাত । অনলাইন পত্রিকা দেখলেও হবে।
-গুগল বা এপস ক্যালেণ্ডারে অনেক সময় আরবি তারিখ মিলে না কম বেশি হয়। এজন্য ওগুলোর উপর ভরসা করা ঠিক হবে না। আপনারা রোযার নিয়মিত সময়সুচি পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও প্রতিদিন নামাজের সময় জানতে আমাদের গ্রুপ জয়েন করুন। আপডেট পাবেন ইনশাআল্লাহ ।
গ্রুপ লিংক -
🔹4) কাযা আর নফল রোযা দুই নিয়তে একটা রোযা রাখা যাই না। যাদের রোযা কাযা আছে তারা কাযাই রাখবেন । এই তিন দিন কাযার নিয়তে রোযা রাখা যাবে।
যদি সামর্থ্য থাকে তাইলে এই তিন দিন আইয়ামে বীযের তিন টা নফল রোযা রাখবেন আর মাসের অন্যান্য দিনগুলোতে কাযা রোযা রাখবেন।
🔹5) চাঁদের খবর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর ঘোষণা থেকে নেওয়া হয়। আকাশ বেশির ভাগ সময় মেঘলা থাকে এজন্য আমাদের দেখা হয় না।
🔹6) ছেলে বা মেয়ে যাদের অনেক আগের রোযা কাযা আছে সেগুলো আনুমানিক হিসাব করে রাখবেন ।
🔹7) আযান পর্যন্ত সাহরি খাবেন না । বাংলাদেশে ফজরের আযান দেওয়া হয় ওয়াক্ত শুরুর বেশ কিছু সময় পর। এজন্য কেউ যদি ফজরের আজান পর্যন্ত খাই তাহলে সুবহে সাদিকে খাবার খাওয়া হবে । যার ফলে রোযা হবে না।
আমরা তো এখন ঘড়ির সময়ের উপর নির্ভরশীল এজন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বের করা হয়েছে যেটা সাহরির শেষ সময় বলা হয়। ফজরের আগেই সাহরি শেষ করতে হবে। সাহরির সময় জেনে নিতে হবে। এপস বা গুগল থেকে জেনে নেওয়া যাবে।
🔹8 ) তাহাজ্জুদ নামায আমাদের উপর ফরজ ওয়াজিব না। না পড়লে গুনাহ হবে না। এজন্য হাদিসে এটা বলা হয়েছে যে বিতর পড়ে ঘুমানো । কেউ যদি তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে বিতর তাহাজ্জুদের পর পড়বে। আর যদি তাহাজ্জুদ অভ্যাসের পরিণত না হয় তাহলে বিতর পড়ে ঘুমাবে । তাহাজ্জুদে উঠতে পারলে শুধু তাহাজ্জুদ পড়বে বিতর আর পড়া লাগবে না।
🔹9) রোযার নিয়ত মুখে পড়ার বিষয় না। এটা এমনিতেই হয়ে যায়। যখন ভাবেন যে অমুক দিন রোযা রাখবো এটাই নিয়ত। সাহরির ব্যবস্থা করাও নিয়ত। আর সাহরি খাওয়া সবচেয়ে বড় নিয়ত। এমন কেউ কি আছে যে রোযা রাখবে না কিন্তু সাহরি খাবে ?
🔹10) সাহরির সময় ঘুমের কারণে উঠতে না পারলে কিছু না খেয়ে ই রোযা রাখা যাবে । নিয়তকরে নিবেন অমুক রোযা রাখলাম ।
🔹11) কাযা রোযা সপ্তাহের যে কোন দিন একটা বা একাধিক ইচ্ছা মত একটানা বা ভেঙে ভেঙে রাখা যাবে।
🚫12) যার যার দেশের আরবি তারিখের 13,14,15 তারিখে রোযা রাখবেন । এটা জানতে সেই দেশের পত্রিকাগুলো দেখুন । অনলাইন পত্রিকাতেও দেখতে পারেন। এপস বা গুগলের তারিখ গুলো নির্ভরযোগ্য নয়।
___________________
যাঝাকুমুল্লাহু খইর ।।
©সিরাতল মুস্তাকিম

No comments:

Post a Comment

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...