Thursday, April 14, 2022

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা


জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এর বিপরীতে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করার ফজিলত সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।
হজরত ইবনু উমর রা. রাসুলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন,
তোমরা স্ত্রীদের মসজিদে যেতে বারণ করো না। তবে নিজের বাড়িতে সালাত আদায় করা তাদের জন্য সর্বোত্তম। (আবু দাউদ : ৫৬৭, মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৬৮, সহিহ ইবনু খুজাইমা : ১৬৮৪)
এ হাদিসটিকে ইমাম নববি (আল-মাজমু', ৪/১৯৭), ইবনু দাকিক (আল-ইকতিরাহ : পৃ.৯১), আহমাদ শাকের (তাহকিকুল মুসনাদ, ৭/২৩৪), নাসিরুদ্দীন আলবানী (সহিহ সুনানু আবি দাউদ, পৃ.৫৬৭) প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ সহিহ বলেছেন। হাদিসটি এব্যাপরে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন যে, নারীদের জন্য মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে নিজের ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. রাসুলু্ল্লাহ সা.-থেকে অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও স্পষ্ট করে তুলে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন :
নারীদের ক্ষুদ্র কক্ষের নামায বড় কামরার নামাযের তুলনায় উত্তম। ঘরের নির্জন কোণের নামায ক্ষুদ্র কক্ষের নামাযের তুলনায় উত্তম। (আবু দাউদ : ৫৭০, বাজ্জার : ২০৬৩, ইবনু খুজাইমা : ১৬৯০)
ইমাম নববি এ হাদিসটিকে ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ বলেছেন। (আল-মাজমু’ : ৪/১৯৮) ইবনু কাসির রহ. এর সনদকে উত্তম বলেছেন। (তাফসিরুল কুরআন : ৬/৪০৬) আলবানী রহ.-ও হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন। (সহিহ সুনানু আবি দাউদ : পৃ. ৫৭০)
প্রায় কাছাকাছি শব্দযোগে আরও বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ সকল হাদিসে ‘আম’ বা সাধারণভাবে সকল নারীর ক্ষেত্রে এ বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, তাদের জন্য ঘরের নামাজ মসজিদের চেয়ে উত্তম। এসকল হাদিসকে সামনে রেখে জমহুর আলিমগণ একমত, মহিলাদের ঘরে নামাজ পড়া মসজিদে পড়ার চেয়ে উত্তম।
এখন প্রশ্ন হলো, নারীদের মসজিদে গমণ করা কি বৈধ? বৈধ হলে রাসুলুল্লাহ সা. প্রদত্ত এ বৈধতার ধরণ কি? এটি কি শর্তযুক্ত, নাকি শর্তহীন বৈধতা?
একবার উম্মে হুমাইদ রা. রাসুলুল্লাহ সা.-এর নিকট গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আমি আপনার সাথে নামায আদায় করতে আগ্রহী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায আদায় করতে পছন্দ করো। কিন্তু তোমার জন্য গৃহের অন্দরমহলে নামায পড়া উত্তম; বড় কামরার তুলনায়। বড় কামরায় নামায পড়া উত্তম বারান্দার চেয়ে। বারান্দা উত্তম তোমার পাড়ার মসজিদের চেয়ে। নিজ পাড়ার মসজিদ উত্তম আমার মসজিদ থেকে।” এ কথা শোনার পর উম্মে হুমাইদ রা. তাঁর গৃহের নির্জন স্থানে একটি নামাযের স্থান বানানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানেই মৃত্যু পর্যন্ত নামায আদায় করেন। (মুসনাদে আহমাদ : ২৭০৯০, সহীহ ইবনে খুজাইমা : ১৬৮৯)।
হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (ফাতহুল বারী : ২/২৯০)
এ হাদিসের নিষেধাজ্ঞাকে কেউ কেউ কেবল উম্মে হুমাইদ রা.-এর সাথে ‘খাস’ করেন। এটি মোটেও শুদ্ধ নয়। কারণ আমরা সহিহ হাদিস থেকে দেখেছি যে, মহিলাদের মসজিদে গমনের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর দৃষ্টিভঙ্গিই এমন ছিল। তাহলে এ হাদিসটির হুকুম কেবল তাঁর সাথে খাস হয় কিভাবে! বিভিন্ন বর্ণনায় তাঁর স্বামীর সাথে কোলহের যে ঘটনা পাওয়া যায়, তা এ হাদিসটির প্রেক্ষাপট, তবে এর বিধানকে ‘খাস’ করার মতো কারণ নয়।
কুরআন ও সুন্নাহতে এমন অসংখ্য নজির রয়েছে যে, কোন একটা বিশেষ ব্যাক্তিকে কেন্দ্র করে একটি বিধান বর্ণনা করা হলেও বিধানটি সবার ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য হয়। এক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছে। রাসুলুল্লাহ সা.-এর এ নিষেধাজ্ঞাটি কেবল উম্মে হুমাইদ রা.-এর জন্য নয়, বরং সকলের জন্যই প্রযোজ্য। আর এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো অন্যান্য সহিহ হাদিস, যা আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। এসকল হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. আমভাবে সকল নারীর ক্ষেত্রে মসজিদে সালাত আদায় করাকে উত্তম বলেছেন।
যাহোক, এ হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সা.-থেকে বর্ণিত প্রথম হাদিসটির শুরুর অংশের সাথে আপাত দৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক মনে হয় (হাদিসটিকে ‘খাস’ গণ্য করা হলেও)। সেখানে তিনি বলেছেন যে, মসজিদে গমন করতে চাইলে নারীদেরকে যেন নিষেধ করা না হয়। অথচ এখানে তিনি নিজেই নিষেধ করছেন। এ বিরোধের সমাধান কি? হজরত আয়েশা রা.-থেকে বর্ণিত একটি আসারে এর সমাধান মেলে। তিনি বলেন :
নারীরা যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে তা যদি রাসুলুল্লাহ সা. দেখতেন, তবে বনি ইসরাঈলের নারীদের যেমন নিষেধ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মসজিদে আসতে নিষেধ করে দিতেন।” (সহিহ বুখারি : ৮৬৯)
এ হাদিসটি এ মাসআলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মূলনীতিকে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে সাহাবি, তাবেয়ি ও ফকিহগণ এ মূলনীতিকেই আকড়ে ধরেছেন। মূলনীতিটি হলো, ‘নারীদের মসজিদের গমনের বৈধতা শর্তসাপেক্ষ। স্থান-কাল-পাত্রভেদে এটি পরিবর্তনশীল।’ তাছাড়া নারীদেরকে মসজিদে যেতে বাধা না দেওয়ার হুকুমটিও ছিল ‘পরামর্শ মূলক’, ‘আদেশসূচ’ নয়। এর প্রমাণ হলো পরবর্তী সাহাবি ও তাবেয়িগণের আমল।
সহিহ মুসলিমে বেশ কয়েকটি সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার ও তাঁর পুত্র বিলাল রহ.-এর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ইবনু উমর রা. তাঁর পুত্রকে হাদিস শোনালেন যে, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে বারণ করো না।’ এ হাদিস শুনে বিলাল রহ. বলেন,
আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই বাঁধা দিবো!
পুত্রের এমন অকপট বক্তব্য শুনে ইবনু উমরা রা. খুব রেগে গিয়েছিলেন এবং তাকে খুব বকাঝকা করেছিলেন। (সহিহ মুসলিম : ৮৭৫)
এ হাদিসে হজরত ইবনু উমর রা.-এর আচরণ থেকে খুব সরল মাসআলা নির্গত করেন কেউ কেউ। অথচ একটি সূক্ষ্ম বিষয় এড়িয়ে যান। ইবনু উমর রা. এর পুত্র বিলাল রহ. ছিলেন একজন তাবিয়ি। উপরন্তু তিনি হজরত উমরের নাতি এবং ইবনু উমরের মত একজন সাহাবির সন্তান। তাঁর পক্ষে এটা কিভাবে সম্ভব হলো যে, তিন রাসুলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ শোনার পরে আল্লাহর নামে শপথ করে তার বিপরীত মত প্রকাশ করলেন! আমাদের মত নগণ্য ইমানদারদের জন্যও তো এটি কল্পনা করা যায় না! তাহলে হজরত উমরের পরিবারে এতটুকু আদব-কায়েদার শিক্ষা ছিল না কি?
বাস্তবতা হলো, আমরা মূল পয়েন্টটা ধরতে পারিনি। বিলাল রহ.-ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর এ হাদিসটি থেকে বুঝেছিলেন যে, এটি শর্তযুক্ত বিধান। তাছাড়া মসজিদে যেতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশটিও ছিল পরামর্শমূলক, আদেশসূচক নয়। পরবর্তী ফকিহগণও এমনটিই বুঝেছেন। এর প্রমাণ দেখি চলুন।
জমহুর আলিমগণ বলেন, স্ত্রী মসজিদে গমনের অনুমতি চাইলে স্বামী যদি কোন কারণ না থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে অনুমতি না দেয়, তাহলে তা হারাম হবে না। অর্থাৎ, স্বামীর জন্য স্ত্রীকে বাঁধা দেওয়া কিংবা নিষেধ করা বৈধ, যদিও কোন কারণ না থাকে। কেউ কেউ অবশ্য কারণ থাকার শর্ত দিয়েছেন। তবে মূল পয়েন্টে সকলেই একমত যে, স্ত্রীকে নিষেধ করার অধিকার রাখেন স্বামী। এটিই মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলিদের মাজহাব। বিস্তারিত দেখুন— মাওয়াহিবুল জালিল (২/২৫১), আল-মাজমু’ (৪/১৯১), কাশশাফুল কিনায়ি (১/৪৬৯)
ইমাম নববি রহ. বলেন,
স্বামীর জন্য মুস্তাহাব হলো, স্ত্রী মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেওয়া, যদি সে বৃদ্ধ হয়ে যায়। কারণ তার প্রতি আর কোন আকর্ষণ বাকি থাকে না। সে যেমন ফিতনা থেকে নিরাপদ, তেমনি তার থেকেও অন্যরা নিরাপদ। আর যদি স্বামীরা তাদেরকে বাধা দেয়, তবুও তা তার জন্য হারম নয়। এটিই আমাদের অভিমত। বায়হাকি রহ. বলেন, সাধারণ আলিমগণ এমনটিই বলেন। (আল-মাজমু’ : ৪/১৯৯)
এই মতের পেছনে ফকিহগণ যুক্তি দেখিয়েছেন, যদি স্বামীর জন্য অনুমতি প্রদান করা ওয়াজিবই হত, তাহলে স্ত্রীর জন্য তার অনুমতি ব্যাতীতই মসজিদে যাওয়া বৈধ হতো। কারণ তখন তা স্ত্রীর হক সাব্যস্ত হত। অথচ ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, স্বামীর অনুমতি ব্যাতীত স্ত্রীর মসজিদে গমন করা বৈধ নয়।
এবার ফিরে যাই বিলাল রহ.-এর কাছে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে মসজিদে যাবার অনুমতি দিবেন না বলে যে তিনি শপথ করেছিলেন, তা কি অপরাধ ছিল? মোটেও না। তিনিও বুঝেছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ সা.-এর এ নির্দেশটি মুতলাক নয়, মুকাইয়াদ। আম নয়, খাস। যেমন ইমাম মালেক রহ. বলেন, এ বিধান ছিল কেবল বৃদ্ধ মহিলার জন্য।
এখানে প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ইবনু উমর রা. রেগে গেলেন কেন পুত্রের উপরে? হয়ত তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-এর কথার বিপরীতে কথা বলাটাকে বেয়াদবি মনে করেছেন। এ ধরণের বিভিন্ন নজির হাদিসের গ্রন্থে পাওয়া যায়। যেমন : হজরত আবু হুরায়রা ও ইবনু আব্বাস রা.-এর ঘটনা।
আবু হুরায়রা রা. একবার হাদিস বর্ণনা করছিলেন যে, আগুন স্পর্শ করেছে এমন কিছু ভক্ষণ করলে অজু করতে হবে। ইবনু আব্বাস রা. অকপটে জবাব দিলেন, গরম পানি খেলে কিংবা তেল মালিশ করলেও অজু করতে হবে তাহলে? আবু হুরায়রা রা. রেগে গিয়ে বললেন, ‘ভাতিজা, আমি যখন তোমার নিকটে রাসুলুল্লাহ সা.-থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করি, তখন এর বিপরীত কোন উদাহরণ পেশ করবে না।’ (ইবনু মাজাহ : ২২)
খেয়াল করুন, এখানে ইবনু আব্বাস রা.-এর প্রশ্নে কোন ত্রুটি ছিল না। এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক প্রশ্ন। পরবর্তীতে ফকিহগণও এ প্রশ্ন উত্থাপন করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আগুনে স্পর্শকৃত বস্তু ভক্ষণের কারণে অজু আবশ্যক হয় না। তাহলে আবু হুরায়রা রা. রেগে গেলেন কেন? বস্তুত এটি ছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি তাঁদের একান্ত ভালোবাসার প্রভাব। তাঁরা রাসুলুল্লাহ সা.-এর বিপরীতে কোন কথাকে বরদাস্ত করতে পারতেন না।
এমন অনেক ঘটনা হাদিসের ভাণ্ডার খুঁজলে পাওয়া যাবে। হজরত ইবনু উমর রা.-এর ক্ষেত্রে হয়েছে। হাদিসের বিপরীতে সন্তানের আশু জবাবকে তিনি সৈহ্য করতে পারেননি। আর তিনি নিজেও মহিলাদের মসজিদে গমণ করা পছন্দ করতেন না। এ ব্যাপারে আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. তাঁর সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, জুমআর দিনে দিনে মহিলারা মসজিদে এলে তিনি নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করে তাদেরকে বের করেতেন। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৭)
ইবনু আবি শাইবা রহ. তাঁর মুসান্নাফে ইবনু মাসউদ রা. সম্পর্কেও এমন ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনিও মহিলাদের নুড়ি পাথর মেরে মসজিদ থেকে জুমআর দিনে মহিলাদের বের করে দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা : ৭৬১৭)
এসকল ঘটনায় মূলত পাথর মারা বলতে আঘাত করা উদ্দেশ্য নয় বরং ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য। এভাবে অন্যান্য সাহাবি থেকেও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। তাবিয়িগণের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
ইবরাহিম নখয়ী রহ.-এর তিনজন স্ত্রী ছিল, তিনি কাউকেই জামাআত কিংবা জুমআর জন্য বের হতে দিতেন না। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা : ২/২৭৭)
হজরত হাসান বসরি রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মহিলা যদি এই শপথ করে যে তার স্বামী কারামুক্ত হলে সে বসরার সকল জামে মসজিদে দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করবে, তাহলে এর বিধান কি? তিনি বললেন,
সে কেবল তার নিজের কওমের মসজিদেই নামাজ আদায় করে নিবে। কেননা তার জন্য এ শপথ প্রযোজ্য হবে না। হজরত উমর রা. যদি তাকে পেত, তাহলে তার মাথায় আঘাত করত। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা : ২/২৭৭, উমদাতুল কারী : ৬/১৫৭)
মোটকথা, অনেক সাহাবি ও তাবিয়িগণের আমল থেকে স্পষ্ট হয় যে, মহিলাদের মসজিদে গমনে বাধা না দেওয়ার নির্দেশকে তাঁরা ‘আবশ্যক’ অর্থে গ্রহণ করেননি, বরং সাধারণ পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তা নাহলে কখনোই কোন সাহাবি কিংবা তাবিয়ির পক্ষে মসজিদে গমণ করতে নিষেধ করা কিংবা মসজিদ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হত না। আমরা পেছনের আলোচনায় দেখেছি, জমহুর আলিমগণও এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘আবশ্যক’ অর্থে গ্রহণ করেননি।

হজরত আয়েশা রা.-এর হাদিসটিও স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, মহিলাদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি ছিল শর্তযুক্ত, যা স্থান-কাল-পাত্র ও অবস্থাভেদে পরিবর্তীত হতে পারে। তাছাড়া মসজিদে গমনের অনুমতি এবং বাধাদানে নিষেধ সম্বলিত হাদিসগুলোর উদ্দেশ্য কি, তা নিয়েও আলিমগণ মতভেদ করেছেন। যেমন : ইমাম মালেক রহ.সহ একদল ফকিহ বলেন যে, এসকল হাদিসের উদ্দেশ্য কেবল বয়স্ক-বৃদ্ধ নারী, যারা ফিতনার আশঙ্কামুক্ত। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৭)
এ মুহুর্তে আমাদেরকে আরেকটি গ্ররুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুখে সুস্পষ্টভাবে ঘরের নামাজ উত্তম শোনার পরেও কিছু কিছু মহিলা সাহাবি মসজিদে যেতেন কেন? এই প্রশ্নটি আরও গভীর শোনাবে যদি ইবনু উমর রা.-এর হাদিসটিকে সামনে রাখি—‘তোমরা স্ত্রীদের মসজিদে যেতে বারণ করো না। তবে নিজের বাড়িতে সালাত আদায় করা তাদের জন্য সর্বোত্তম।’ এ হাদিসের প্রথম অংশকে আপাতদৃষ্টিতে দ্বিতীয় অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না। অনুত্তম হওয়া সত্ত্বেও কেন পুরুষরা নারীদের বাধা দিবে না?

আমরা জানি, শরিয়ার কোন বিধানই অন্যটির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। পুরুষ নারীর অভিভাবক এবং তার কল্যাণ কামনার দ্বায়িত্ব তার উপরে ন্যাস্ত। তাহলে কেন সে অধিনস্তকে একটি অনুত্তম কাজ থেকে বিরত রাখবে না? আর রাসুলুল্লাহ সা. কিভাবে এমন একটি পরামর্শ দিতে পারেন? তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সা. সর্বদা উত্তম আদর্শকে ধারণ করেছেন। তাহলে কেন তিনি অনুত্তম হওয়া সত্ত্বেও মহলিাদেরকে মসজিদে যেতে বারণ করেননি?

রাসুল্লাহ সা.-এর সাহাবিগণ সর্বদা ফাজায়েলের সন্ধান করতেন। রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুখ থেকে বেড়িয়ে পড়া মাত্র তাঁরা আমল করতে ঝাপিয়ে পড়তেন। তাহলে বাড়িতে নামাজ উত্তম জানা সত্ত্বেও কেন তারা মসজিদে গমণ করতেন? এসকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তা নাহলে এ বৈধতার প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হবে।
ইবনু উমরের হাদিসে ফিরে যাই—সেখানে দুটি অংশ পাবো আমরা। একটি হলো, ‘মসজিদে গমন করতে নিষেধ করো না’, আরকেটি অংশ ‘বাড়িতে সালাত তাদের জন্য উত্তম’। এই দুটি অংশে মনোযোগ দিতে হবে। বাড়িতে সালাত উত্তম হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা মসজিদে যেতেন—এ থেকে বুঝা যায়, তাঁদের মসজিদের গমনের পেছনে নামাজ ছাড়াও অন্যকোন উদ্দেশ্য ছিল। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সা. বাড়িতে সালাত উত্তম হওয়া সত্ত্বেও যে তাঁদেরকে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন, এর কারণও এটিই। শুধু নামাজ পড়া ছাড়াও এতে অন্য উপকার ছিল। উপকারটা কি? রাসুলুল্লাহ সা.-এর সোহবত।
রাসুলুল্লাহ সা. ছিলেন সাহাবিগণের সর্বোচ্চ মোটিভেশন। তাঁর মুবারক চেহারা দর্শন করাই ছিল তাঁদের ঈমানকে শাণিত করার জন্য যথেষ্ট। হাদিসেরে ভাণ্ডারে এর অসংখ্য নজির রয়েছে।রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাতিব হানজালা আল-উসাইদী রা.-থেকে এমন একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন :
একবার আবু বকর সিদ্দীক রা. আমার সঙ্গে দেখা করলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, হানজালাহ, তুমি কেমন আছ? জবাবে আমি বললাম, হানজালাহ্ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। সে সময় তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ তুমি কি বল্‌ছ? আমি বললাম, আমরা রসূলুল্লাহ সা.- এর কাছে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত জাহান্নামের কথা শুনিয়ে দেন, যেন আমরা উভয়টি চাক্ষুষ দেখছি। সুতরাং আমরা যখন তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে স্ত্রী-পুত্র এবং ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যাই, তখন আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। এ কথা শুনে আবু বকর রা. বললেন, আল্লাহর কসম আমারও একই অবস্থা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৭৫০)
বিভিন্ন হাদিসে দেখা যায়, মহিলারা আক্ষেপ করতেন যে, পুরুষরা ইবাদতের ক্ষেত্রে এগিয়ে রাসুলুল্লাহ সা.-এর অধিক সাহচার্যের কারণে। এজন্য রাসুলুল্লাহ সা. মহিলাদেরকে মসজিদে গমণে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি চাইতেন যে, তাঁর সাহচার্যের মাধ্যমে মহিলাদেরও উপকার হোক, তাদেরও ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি পাক। তাছাড়া আরেকটি উপকার ছিল, মহিলারা মসজিদে গেলে কুরআন শোনার সুযোগ পেত। সাধারণত তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই কুরআনকে পুরোপুরি হিফজ করেছিলেন। তাই কুরআন শ্রবণের সুযোগ ছিল না খুব বেশি। মসজিদে সালাত আদায়ের মাধ্যমে এ সুযোগ হত তাদের।
এ ব্যাপারে শক্ত সমর্থন পাওয়া যায় উম্মে আতিয়্যা রা.-এর হাদিস থেকে। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন কুমারী, তরুণী, প্রাপ্তবয়স্কা, পর্দানশিন এবং ঋতুবতী সব মহিলাদের বের হওয়ার হুকুম করতেন। ঋতুবতী মহিলারা নামাযের জামা'আত হতে এক পাশে সরে থাকতো কিন্তু তারা মুসলিমদের দু'আয় শারীক হত। এক মহিলা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন নারীর নিকট চাদর না থাকে? তিনি বললেন, তার (মুসলিম) বোন তার অতিরিক্ত চাদর তাকে ধার দিবে। (সুনানুত তিরমিজি : ৫৩৯)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, মহিলাদের জন্য মসজিদে বা ঈদগাহে যাওয়ার যে অনুমতি ছিল তার মৌলিক উদ্দেশ্য সালাত আদায় করা ছিল না। যদি তাই হত, তাহলে ঋতুবতী নারীদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার আদেশ করেছেন কেন? মূল উদ্দেশ্য ছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাহচর্য লাভ করা, তাঁর মুবারক মুখ থেকে নসিহা শ্রবণ করা এবং তাঁর দুআয় শরীক হওয়া।
রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পরে মসজিদে গমনের মাধ্যমে এই বাড়তি উপকার লাভ করার আর সুযোগ ছিল না। তাই মহিলাদের মসজিদে গমন করাটা ‘নিছক অনুত্তম’ কাজে পরিণত হয়। এর পরে সময় বাড়তে থাকলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ফিতনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এজন্য এ বিষয়টি সম্পর্কেও সাহাবা-তাবেয়িগণ নতুন করে ভাবতে থাকেন। এজন্য মাসআলায় বিবর্তন আসতে থাকে।
এই মাসআলার ক্ষেত্রে চারটি ধাপ চিহ্নিত করা যায়—
রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুবারক যুগ
রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের নিকটতমযুগ
সাহাবাগণের শেষ যুগ ও তাবেয়িগণের যুগ
মুতাআখখিরীন ফকিহদের যুগ
আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর যুগে নারীদেরকে শর্তযুক্ত অনুমতি দিয়েছিলেন মসজিদে যাওয়ার জন্য। পাশাপাশি এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তোমাদের জন্য বাড়িতে নামাজ উত্তম। অর্থাৎ, শুধু নামাজের বিচারে ঘরই উত্তম, মসজিদে আসার দরকার নেই। রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাহচার্য ও পূর্বে বর্ণিত কারণগুলোর জন্য অনেক মহিলা সাহাবা মসজিদে আসতেন। স্বামীরাও তাদেরকে সাধারণত বাধা দিতেন না।
রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পরে দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আসে। শুরু হয় দ্বিতীয় যুগের। তখন হজরত উমর রা.-এর মত বিজ্ঞ সাহাবিও স্ত্রীদের জন্য মসজিদে গমন করা পছন্দ করতেন না। তাঁরা স্ত্রীদের মৌখিকভাবে নিষেধ করতেন তবে ফিতনার প্রকোপ ব্যাপক না হওয়ায় কারণে বাধা দিতেন না, কিংবা এ নিষেধাজ্ঞা জোড়ালো ছিল না। তবে তাঁদের অপছন্দের ব্যাপারটি ছিল সাধারণের মধ্যেও প্রসিদ্ধ।
সহিহ বুখারিতে ইবনু উমর রা.-থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উমর রা.-এর স্ত্রী ফজর ও ইশার নামাজের জামাতে মসজিদে উপস্থিত হতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি জানেন যে, উমর রা. আপনার মসজিদে আসাকে অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন, তাহলে কেন আপনি মসজিদে আসেন? তিনি বললেন, তাহলে উমর স্বয়ং কেন আমাকে বাধা দিচ্ছে না? তাঁকে বলা হল, তাঁকে বাধা দেয় রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী—‘তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে বারণ করো না?’ (সহিহ বুখারি : ৯০০)
আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানি লিখেছেন,
উমর রা. তাঁর স্ত্রীকে বলতেন, ‘আল্লাহর শপথ, তুমি জানো যে আমি তোমার এ ব্যাপারটি পছন্দ করি না। স্ত্রী বলতেন, আল্লাহর শপথ, আপনি আমাকে নিষেধ না করলে মসজিদে যাওয়া বন্ধ করবো না।’ (ফাতহুর বারি : ২/৪৪৫-৪৪৬)
হজরত উমর রা. অপছন্দ করা সত্ত্বেও তাঁকে বাধা না দেওয়ার কারণ হলো, আতিয়্যা রা. বিয়ের সময়েই শর্ত করেছিলেন যে, তাঁকে মসজিদে যেতে বাধা প্রদান করা হবে না। এ প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তিনি বাধ্য ছিলেন, তাই তাঁকে নিষেধ করতে পারছিলেন না। (মুফতি তাকি উসমানি, ইনআমুল বারী : ৪/৮১) তাছাড়া উমর রা.-এর অন্য কোন স্ত্রীর ব্যাপারে মসজিদে গমনের বর্ণনা পাওয়া যায় না।
হজরত উমর রা.-এর এই অপছন্দকে নিছক ‘ব্যাক্তিগত গায়রত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করাটা মোটেও যৌক্তিক নয়। কারণ ইসলামের পছন্দ-অপছন্দকেই তাঁরা ব্যাক্তিগত রুচিতে পরিণত করে নিয়েছিলেন। মসজিদে স্ত্রীদের গমনের মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র কল্যাণ অবশিষ্ট থাকত, তাহলে তা অপছন্দ করতে কিংবা ‘আমি পছন্দ করি না’— মুখ ফুটে একথা উচ্চারণ করতে পারতেন না হজরত উমরের মতো এত কট্টর মানুষ। তাঁর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণীটিও স্মরণ রাখুন—
‘আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে কট্টর হলো উমর।’ (তিরমিজি : ৩৭৯০, ইবনু মাজাহ : ১৫৪)
হজরত উমরের মৃত্যুর পরে, বিশেষ করে উসমান রা.-এর খিলফতের শেষ দিকে এসে ফিতনা ব্যাপকরূপ লাভ করে। মানুষের মধ্যে তাকওয়ার পরিমাণ হ্রাস পায় আগের যুগের তুলনায়। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদসহ অন্যান্য অনেক সাহাবি মহিলাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করেন। কেউ মসজিদে আসলে তাদেরকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিতেন। কখনও কখনও নুড়িপাথর নিক্ষেপ করে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসকল হাদিসগুলো ইবনু আবি শায়বা রহ. তাাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে পৃথক একটি অনুচ্ছেদে সংকলন করেছেন।
এসময়ে মহিলাদের জন্য মসজিদে গমন করাকে অনেক সাহাবি ও তাবেয়ি মাকরুহ হিসেবে গণ্য করতেন। তবে এ মাকরুহ ছিল ‘তানজিহি’ অর্থে, ‘তাহরিমি’ অর্থে নয়। এটি ছিল এ মাসআলার ক্ষেত্রে তৃতীয় যুগ। তখন ইমামগণ বয়স্ক-বৃদ্ধ মহিলাদেরকে ফজর, মাগরিব ও ইশার নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিতেন। কারণ এসময়টা নিরাপদ ছিল। এটা ছিল ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাজহাব। সাহেবাইন রহ. অবশ্য বৃদ্ধাদের জন্য সব ওয়াক্তেরই অনুমতি দিয়েছিলেন। কারণ বৃদ্ধাদের প্রতি সাধারণত আকর্ষণ থাকে না মানুষের। আর মহিলাদের এ অনুমতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যাধিক্য দেখানো। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৬) ইমামগণের এই ফতোয়ার দীর্ঘদিন বলবত ছিল।
এর পরে আসে এ মাসআলার চতুর্থ যুগ। নারী-পুরুষ উভয়ের চরিত্রের ব্যাপক পদস্খলন, অনিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়া এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও এর ক্ষতিকর দিকগুলো যখন সামনে আসে, তখন এ মাসআলা আরও জটিলরূপ ধারণ করে। পরবর্তী ফকিহগণ-বিশেষত আহনাফ-নারীদের বিনা প্রয়োজনের জামাতে শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করাকে মাকরুহ তাহরিমি বলে ফতোয়া প্রদান করেন।
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. বলেন,
‘আমাদের সঙ্গিরা বলেছেন, তাদের বের হওয়ার দ্বারা ফিতনার ভয় রয়েছে। অতএব, এটি হারাম হওয়ার কারণ হবে। কেননা যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা নিজেও হারাম। এজন্য এখানে ‘মাকরুহ’ অর্থ হবে তাহরিমি, বিশেষ করে আমাদের এই যুগের জন্য, যখন মানুষের চারিত্রিক পদস্খলন চূড়ান্ত সীমায় পৌছে গেছে। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৬)
এটিই বর্মান সময়ের জন্য গৃহীত আহনাফের সর্সম্মত মত। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩০৭)
মনে রাখতে হবে, এই মাসআলার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, স্থান-কাল-পাত্রভেদে এর পরিবর্তনশীলতা। যারাই এ মাসআলা সম্পর্কে কলম ধরেছেন, তারাই এ বিষয়টিকে সামনে রেখেছেন। পাশাপাশি প্রায় সকলেই ‘ফিতনার আশংঙ্কা’কে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ফিতনার আশঙ্কাকে মাথায় রেখেই কেউ শুধু বৃদ্ধাদের অনুমতি দিয়েছেন, কেউে কেউ আবার কাউকেই অনুমতি দেননি। কেউ সাধারণভাবে মাকরুহ বলেছেন, কেউ হারাম অর্থে মাকরুহ বলেছেন। তবে সকল মাজহাবের পূর্ববর্তীদের চেয়ে পরবর্তী ফকিহগণ অপেক্ষাকৃত বেশি কঠোরতা দেখিয়েছেন। কারণ আমরা আগেই বলেছি, এ মাসআলার মূল ফোকাসটি যুগের পরিবর্তন ও ফিতনার আশঙ্কার দিকে।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে এখন আমাদের দেশ কিংবা উপমহাদেশের অবস্থা বিবেচনা করুন। এখানে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধর্ষণ। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, মাদরাসা—কোথাও বাকি নেই। ছোট ছোট শিশু পর্যন্ত মক্তবে পড়তে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মাদরাসাগুলো পর্যন্ত লাওয়াতাতের অভিযুগে অযিুক্ত হচ্ছে। পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ছে বন্ধু বান্ধবীকে, শিক্ষক ছাত্রীকে, পথচারী পথচারীকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিচার প্রত্যাশীকে, এমনকি পিতা কন্যাকে ধর্ষণ করছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
শহরের স্কুলগুলোর সামনে দীর্ঘ অভিভাবকের লাইন। তাদের এতটুকু ভরসা নেই যে মেয়েকে একা স্কুলে পাঠাবে! এর বাইরেও আছে নারী-পুরুষ উভয়ের মিউচুয়াল হারাম সম্পর্ক। অবস্থা এতদূর গড়িয়েছে যে জামাই শাশুড়ি নিয়ে ভেগে যাচ্ছে। শ্বশুর পুত্রবধুর সাথে সম্পর্ক করে সন্তানের হাতে খুন হচ্ছে। ওয়াল্লাহি, চৌদ্দশো বছরে মুসলিম উম্মাহ কখনোই এমন সংকটে পতিত হয়নি। এই অবস্থায় মহিলাদের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতির প্রশ্ন উত্থাপন করাটা নিতান্তই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত, অন্তত ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য।
শরিয়ার একটা মূলনীতি হলো, সাদ্দুজ জারায়ি। অর্থাৎ, ক্ষতির পথকে রুদ্ধ করতে হবে। এই মুলনতি আমরা পেছনে উল্লেখ করেছি, যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা নিজেও হারাম। বস্তুটি সত্তাগত হারাম নাও হতে পারে। যেমন : হারবী কাফেরদের নিকটে লোহা বিক্রয় করাকে হারাম বলেছেন আলিমগণ। এই ক্রয়-বিক্রয় হারাম হয়েছে ফলাফলের বিবেচনায়, অথচ এটি সত্তাগত হারাম নয়। একই মূলনীতিকে সামনে রেখে আলিমগণ সহশিক্ষাকে হারাম বলেন। একই মূলনীতিতে বর্তমান সময়ের জন্য মহিলাদের জন্য মসজিদে গমনের বিষয়টি নিষিদ্ধ সাব্যস্ত হবে। কারণ এখন মসজিদে মহিলাদের নিয়ে আসার অর্থ হলো, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজের ধর্ষণকে টেনে মসজিদে নিয়ে আসা। অথচ মহিলাদের মসজিদে আসার কোন ফজিলত নেই, তাদের ঘরের নামজ যে উত্তম, এ ব্যাপারে সকল মাজহাবের জমহুর আলিমগণ একমত।
কুরআনুল কারিমের সাথে আহনাফের এই মতটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘তোমরা নিজের ঘরেই অবস্থান করবে।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)
এ আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায়, নারীর আসল অস্থান ক্ষেত্র হলো তার গৃহ। শুধুমাত্র শরয়ি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সে ঘর থেকে বের হকে পারে। (ইবনু কাসির, তাফসিরে মুয়াসসার)
এখান্যে লক্ষ্যনীয় যে, নারীর মসজিদে সালাত আদায় করার ব্যাপারে কোন ফজিলত বর্ণিত হয়নি। বরং হদিসের ভাষ্যমতে এটি অনুত্তম কাজ। কাজেই নারী যদি শুধু নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, তাহলে এটি হবে অনর্থক কাজের জন্য বের হওয়া, যা শরয়ি প্রয়োজন নয় মোটেও। কাজেই তার বাইরে যাওয়া বৈধ হবে না।
হাদিসে নববির ভাষ্যে এটি আরও পরিষ্কার হয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন,
যখন সে বের হয়, শয়তান তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখে এবং তখনই সে আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী হয়, যখন সে নিজের গৃহে অবস্থান করে। (সহিহ ইবনু খুজাইমা : ১৬৮৫, সহিহ ইবনু হিব্বান : ৫৫৯৯)
কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনা, সাহাবি-তাবেয়ি ও আয়িম্মায়ে মুজতাহিদিন এর চিন্তা, শরিয়ার মূলনীতি এবং আমাদের সমাজের বাস্তবচিত্রকে সামনে রেখে দেখুন এই মাসআলায় আহনাফের মাজহাবটি কত শক্তিশালী এবং বিপরীত মতগুলো কতটা দূর্বল।
পুনশ্চ : শরাঞ্চলের মসজিদগুলো নারীদের জন্য নামাজের ব্যাবস্থা রাখার মাসআলাটি ভিন্ন। এ ব্যাপারে আলিমগণ সুপারিশ করেন। কেননা, এটি জরুরতের অন্তর্ভূক্ত। এ ব্যবস্থা না থাকলে অনেক নারীদের নামাজ কাজা হবে।

Wednesday, April 13, 2022

মঙ্গল শোভাযাত্রা" ও "পহেলা বৈশাখ" সম্পর্কিত আমার ১৩টি প্রশ্ন রয়েছে



"মঙ্গল শোভাযাত্রা" ও "পহেলা বৈশাখ" সম্পর্কিত আমার ১৩টি প্রশ্ন রয়েছে। এগুলোর যথাযথ উত্তর পেলে আগামীকাল সূর্যোদয়ের আগেই আমি রমনা বটমূলে গিয়ে হাজির হব এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করব ইনশা আল্লাহ। :) :) :)
...
১. মঙ্গল শোভাযাত্রা সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। কিন্তু বলা হচ্ছে এটা বাঙালীর হাজার বছরের সংস্কৃতি। এটা জাতির সঙ্গে তথ্যগত প্রতারণা নয় কি? আমি নেহাতই অংকে দূর্বল, হিসাব-নিকাশ তেমন একটা বুঝিনা। কিন্ত এটা বুঝি যে, ২৮ বছর=১০০০ বছর নয়। 
.
২. হাজার বছর ধরে কি বাঙালী কৃষকসমাজ পহেলা বৈশাখের দিনে মূর্তি নিয়ে মিছিল করত?? হাজার বছরের কথা না হয় বাদই দিলাম। সম্রাট আকবার খাজনা আদায়ের সুবিধার্তে ১৫৮৪ সাল থেকে বাংলা সাল চালু করেন। ১৫৮৪ সাল থেকে আজ অবদি অর্থাৎ ৪৩৩ বছর ধরে বাঙ্গালী কৃষকসমাজ পহেলা বৈশাখের দিনে কি কখনো রাস্তায় মূর্তি নিয়ে মিছিল করেছিল?? 
.
৩. পেঁচার মূর্তি, বাঘের মূর্তি, জীব জানোয়েরের মূর্তি মানুষের মঙ্গল-অমঙ্গল করার কোন ক্ষমতা রাখে না। মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাতায়ালা। এসব মূর্তিকে আল্লাহর স্থলাভিষিক্ত করা নিঃসন্দেহে শিরক, কুফরি। এখন কেউ কি প্রমাণ করে দিতে পারবেন যে, মূর্তিকে মঙ্গল প্রদানকারী রূপে গণ্য করলে কেউ কাফির-মুশরিকে পরিণত হবে না?? 
.
৪. সাধারণত মূর্তি বানানো, মূর্তি নিয়ে মিছিল করা হিন্দু ধর্মের সংস্কৃতি। হিন্দু ভাই-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আপনাদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে কি কোথাও পহেলা বৈশাখের দিন মূর্তি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা করার কোন নির্দেশনা আছে?? যদি থাকে তাহলে তো এটা আপনাদেরই সংস্কৃতি, আপনারা পালন করবেনই। আর যদি না থাকে তাহলে কেন এমনটা করছেন?? 
.
৫. রাস্তায় মূর্তি নিয়ে মিছিল করলে দেশে মঙ্গল আসবে- এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানতে চাই। (একই প্রশ্ন বিগত চার বছর ধরে করে আসছি, এখনও এর উত্তর পাইনি। উত্তর না পেয়ে আমি অত্যন্ত হতাশ।)
.
৬. বঙ্গদেশীয় মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্ক, নাস্তিক, সেক্যুলার ও সংস্কৃতিমনারা বরাবরই কূসংস্কারের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ করে আসছে। তাদের ও আমাদের(ইসলামপন্থী) দৃষ্টিতে ঝাড়ু দেখলে অমঙ্গল হয়- এটা কূসংস্কার, পিছন থেকে ডাক দিলে অমঙ্গল হয়- এটা কূসংস্কার, বাচ্চার কপালে কালো টিপ দেয়া কূসংস্কার ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্ক, নাস্তিক, সেক্যুলার ও সংস্কৃতিমনাদের নিকট কেন মূর্তি নিয়ে মিছিল করলে মঙ্গল হবে- এটা কূসংস্কার বলে বিবেচিত হবে না?? কিন্তু দেখা যাচ্ছে এরাই মঙ্গল শোভাযাত্রা পালনে সকলের চেয়ে অগ্রগামী। এ কেমন ডাবল স্ট্যান্ডবাজি রে ভাই!!
.
৭. রবিঠাকুরের ভাষায় "এসো হে বৈশাখ এসো এসো...." এখানে বৈশাখ কি মাস নাকি অন্যকিছু?? হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার পুত্র হল দক্ষা। আর দক্ষার মেয়ে বিশাখা। আর এই বিশাখা থেকেই বৈশাখ। ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধিত্বকারী কবিগুরু যদি বিশাখা দেবীর কাছে মুমূর্ষুরে উড়িয়ে দেবার প্রার্থনা করেন, বৎসরের আবর্জনা দূর করে দেবার প্রার্থনা করেন, গ্লানি মুছে যাবার, জরা ঘুচে যাবার প্রার্থনা করেন তাহলে সেটা অবশ্যই দোষের কিছু নয়। দোষ তখনই যখন এটা সুকৌশলে মুসলিম সমাজে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এরপরও কি আপনি বলবেন, "আমার ঈমান কি এতটাই ঠুনকো নাকি যে সামান্য গান বাজনা করলেই ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে?"  
.
৮. ৪০০ টাকার ইলিশ ১৫০০ টাকায় কিনে খেলে দেশের অর্থনৈতিক অবক্ষয়, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি সহ অসংখ্য অর্থনৈতিক সমস্যা নেমে আসতে পারে। জাটকা ধরার কারণে ভরা মৌসুমে ইলিশের হাহাকার নেমে আসাও অসম্ভব কিছু নয়। এত ক্ষতির কথা জানার পরেও কি পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাওয়া উচিৎ?? 
.
৯. আমরা বাঙালীরা তো প্রায় প্রতিদিনই ভাত-মাছ খেয়ে থাকি। তাহলে বছরের প্রথমদিনে ভাত-মাছ খেয়ে বাঙালী সাজার কি আদৌ কোন যৌক্তিকতা আছে?? 
.
১০. শরৎচন্দ্রের ভাষায় এখন দিগন্তজোড়া মাঠখানা জ্বলিয়া পুড়িয়া ফুটিফাটা হইয়া আছে (তাইতো দেখি এখন বাঙ্গিতে বাজার একেবারে সয়লাব হয়ে আছে)। এই ফুটিফাটা গরমের মধ্যদুপুরে ঢাকার রাস্তায় মিছিল করলে আপনার উপর বেশ কিছু বিপদ নেমে আসতে পারে। অতি ক্ষুদ্র, ভাঙাচোরা মেডিকেলিয় জ্ঞান দ্বারা বুঝি যে, আপনার হিট স্ট্রোক, হাইপারথারমিয়া, হিট এক্সহাশন হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামার কারণে ডিহাইড্রেশন ও ইলেক্ট্রোলাইট লস হয়ে আপনি মারাও যেতে পারেন। অতএব রাস্তায় মিছিল করে নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দেয়া কি মোটেও ঠিক হবে?? 
.
১১. মনে করুন আপনার বাবার তীব্র বুকে ব্যাথা। উনাকে এক্ষুনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা বারডেম এর সিসিইউ তে ভর্তি করাতে হবে। এমতাবস্থায় শাহবাগ মোড়ের মঙ্গল শোভাযাত্রার কারণে যদি আপনার বাবা একটু দেরীতে হসপিটালে পৌঁছায় এবং মৃত্যবরণ করে তাহলে এই অমঙ্গলের দায়ভার কি মঙ্গল শোভাযাত্রাওয়ালরা নিবে?? 
.
১২. বর্ষবরণের মূল উপাদান হল গান-বাজনা। ইসলামে গান বাদ্যযন্ত্র হারাম। কেউ কি ইসলাম থেকে প্রমাণ করতে পারবেন যে আগামীকাল রমনা বটমূলে গেলে কোন পাপ হবে না?? 
.
১৩. আগামীকাল রাস্তায় পর্দাহীন নারীর কারণে বের হওয়াটাই মুশকিল হয়ে পরবে। পর্দাশীল হোক আর পর্দাহীন হোক কোন নন মাহরাম নারীর দিকে একবারের বেশি তাকানোটাই পাপের কারণ। এখন কেউ কি গ্যারান্টি দিতে পারবেন আগামীকাল বের হলে আমাদের কোন পাপ হবে না??  
...
উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম..... :) :) :)
...
লেখকঃ সাফওয়ান আহমেদ ইনান
৩০শে চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই এপ্রিল ২০১৭।

Friday, January 28, 2022

বিপদের সময় আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখা....



-----
যারা চরম বিপদে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে অটল ও অবিচল থাকে এবং ধৈর্যধারণ করে তাদের জন্যই দুনিয়া ও পরকালের সফলতা।
বিপদে আল্লাহর আনুগত্যে অটল ও অবিচল থাকা শুধুমাত্র তাদের দ্বারাই সম্ভব, যাদের প্রতি আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ রয়েছে।
আর আল্লাহর অনুগ্রহপাপ্ত বান্দারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্য লাভের আশায়া এভাবে দোয়া করে..
رَبَّنا أَفرِغ عَلَينا صَبرًا وَتَوَفَّنا مُسلِمينَ
(রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাওঁ ওয়া তাওয়াফফানা মুসলিমিন)
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ধৈর্য থ ধরার তৌফিক দান করুন এবং আপনার প্রতি আনুগত্য থাকা অবস্থায় আমাদেরকে আপনার কাছে ডেকে নিন। -(সুরা আল-আ`রাফ : আয়াত ১২৬)
-----
আগের যুগেও যারা তাওহিদের অনুসারি ছিল তারা এভাবেই আল্লাহ তাআলার কাছে আনুগত্যের ওপর অটল থাকতে আশ্রয় চাইতেন এবং আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতেন।
-----
উল্লেখিত দোয়ার প্রেক্ষাপটঃ
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন তাওহিদ বা একত্ববাদের আনুগত্যের দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন তখন অত্যাচারী ফেরাউন তাকে বললেন, তুমি যদি সত্য নবি হও তবে তোমার মুজিজা দেখাও।
হজরত মুসা আলাহিস সালাম তাঁর হাতের লাঠি মাটিতে ছেড়ে দিলে তা বিরাট অজগর সাপে পরিণত হয়ে ফেরাউনের দিকে ধাবিত হয়।
ফেরাউন ভয়ে তার আসন থেকে লাফিয়ে পড়ে বলতে লাগলো- হে মুসা! (আলাইহিস সালাম) তোমার সাপকে টেনে ধর। আমি তোমার ওপর ঈমান আনলাম।
হজরত মুসা আলাইহি সালাম তার লাঠি ধরে অজগরকে থামালেন।
অতঃপর ফেরাউন হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে বললো, ''হে মুসা! তুমি কে আমি কি তা বলব?''
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, ''হ্যাঁ, বলুন।''
তখন সে বলল, ''তুমিতো সেই ব্যক্তি যে আমার কাছে লালিত-পালিত হয়ে বড় হয়েছ।''
অতঃপর ফেরাউন হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে তার সম্রাজ্যের সব জাদুকরকে সংবাদ দিলেন।
তাফসিরের সূত্র মতে ফেরাউন ৭০ হাজার জাদুকরকে সংবাদ দিয়েছিলেন। সে সংবাদে ১৫ হাজার মতান্তরে ৩০ হাজার জাদুকর উপস্থিত হয়েছিল। প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল দঁড়ি এবং লাঠি।
জাদুকররা হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর ভাই হারুন আলাইহিস সালামকে নজরবন্দি করে দঁড়ি এবং লাঠি মাঠে ফেলায় সব দঁড়ি এবং লাঠি সাপে পরিণত হলো। সাধারণ মানুষ এবং হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তার ভাই হারুন আলাইহিস সালাম ভীত হলেন।
আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন, ''হে মুসা! আপনি ভয় করবেন না। আপনি জয় লাভ করবেন। আপনি হাতের লাঠিটি মাটিতে ফেলে দিন।''
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন তার হাতের লাঠিটি মাটিতে ফেললেন। তাঁর লাঠি বিশাল বড় এক সাপে পরিণত হয়ে মাঠে কিলবিল করা সব সাপকে খেয়ে ফেলল।
জাদুকররা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের মুজিজা দেখে নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করল যে, তিনি আল্লাহর সত্য নবি। তারা বললো,
''হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যদি জাদুকর হতেন। তবে আমাদের সঙ্গে পারতেন না। তারা তখনই সেখানে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং আল্লাহ ও হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ওপর ঈমান আনলেন।''
এ অবস্থা দেখে ফেরাউন জাদুকরদের বলে, তোমরা আমার অনুমতি ব্যতিত ঈমান আনলে?''
ফেরাউন তাদেরকে বিভিন্ন শাস্তির কথা বলায়- প্রচণ্ড ক্ষমতার অধিকারী ফেরাউনের অত্যাচার থেকে নিজেদের ঈমানকে হেফাজতের জন্য তারা আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে উল্লেখিত দোয়া পড়েলেন।
-----
সুতরাং মানুষের উচিত চরম অত্যাচার নির্যাতন ও বিপদের সময় মহান আল্লাহর কাছে তাঁরই শেখানো ভাষায় দোয়া করা। নিজেদের ঈমানকে হেফাজত করা। আল্লাহর আনুগত্যে অটল ও অবিচল থাকা।
-----
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের নির্দেশিত ঘোষণা ও দোয়া তার কাছে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। চরম বিপদ ও মুসিবতে আল্লাহর আনুগত্যে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Monday, December 13, 2021

সুরা আল-বাক্বারার শেষ দুই আয়াতের ফযীলত



___________________________________
সুরা আল-বাক্বারার শেষ দুইটি আয়াত (২৮৫+২৮৬) “আমানার রাসুলু. . .থেকে শেষ পর্যন্ত” - তেলাওয়াত করার অনেক ফযীলতের কথা বিভিন্ন সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া শেষ আয়াতে অত্যন্ত জরুরী কয়েকটি দুয়া রয়েছে, এই দুয়াগুলো কবুল হওয়ার ওয়াদাও করা হয়েছে।
___________________________________
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে আল্লাহর আরশের নীচের একটি ধন-সম্পদের ভান্ডার থেকে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত দেওয়া হয়েছে। আমার পূর্বে তা কাউকে দেওয়া হয়নি, আমার পরেও অন্য কাউকে তা দেওয়া হবেনা।” আন-নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, শায়খ আল-আরনাউ’ত বলেন, হাদীসটি সহীহ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আকাশ ও জমীন সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর পূর্বে একটা কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব থেকে সুরা বাক্বারার শেষ দুইটি আয়াত নাযিল করা হয়েছে। এই দুইটি আয়াতের মাধ্যমেই সুরা আল-বাক্বারাহ সমাপ্ত করা হয়েছে। যেই ঘরে তিন রাত সুরা বাক্বারার শেষ দুইটি আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, শয়তান সেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে না।” তিরমিযীঃ ২৮৮২, আল-হাকিমঃ ২০৬৫, হাদীসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। 

একদিন জিবরাঈল আ’লাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপরের দিকে একটি আওয়ায শুনতে পেয়ে তিনি নিজের মাথা তুললেন এবং বললেন, “এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজই খুলে দেওয়া হল; আজকের দিন ছাড়া কখনও তা খোলা হয়নি। এখন সেই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করলেন। তিনি বললেন, তিনি এমন একজন ফেরেশতা যিনি পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, আজ ছাড়া অন্য কোন দিন তিনি অবতরণ করেননি। এরপর সেই ফেরেশতা নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম দিয়ে বললেন, “আপনি দুইটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে দেওয়া হয়েছে কিন্তু আপনার পূর্বে অন্য কোন নবীকে দেওয়া হয়নি। তা হলো সুরা ফাতেহা এবং সুরা বাক্বারার শেষ অংশ। এই দুইটি নূরের যে কোন হরফ (দুয়া) আপনি পাঠ করবেন, তা আপনাকে দেওয়া হবে।” সহীহ মুসলিমঃ ১৭৬০।
___________________________________
রাতের বেলা সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তাহাজ্জুদ সালাতের সমান সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়ঃ
রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়বে, সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে।” সহীহ বুখারীঃ ৫০১০, সহীহ মুসলিমঃ ৮০৭। 
ক্বুরআন ও হাদীসের অনন্য সংকলন ‘রিয়াদুস সালেহীন’ এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন-নববী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “এই হাদীসের অর্থ কেউ বলেছেন, ক্বিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, বালা-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” শারহুন নববী আ’লা সহীহ মুসলিমঃ ৬/৩৪০, হাদীস ৮০৭। 
সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার, আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদীস, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহি’মাহুল্লাহ ইমাম নববীর এই অভিমত সমর্থন করে বলেন, “উপরের সবগুলো অর্থ নেওয়া সঠিক। আল্লাহ ভালো জানেন। প্রথম অর্থটি (তাহাজ্জুদের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহ আ’নহু থেকে একটি মারফু হাদীসে স্পষ্ট ঊল্লেখ রয়েছে।” ফাতহুল বারীঃ ৮/৬৭৩, হাদীস নং-৫০১০।
এ কারণে আলী রাদিয়াল্লাহ আ’নহু বলেন, “আমার মতে যার সামান্যও জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, এই দুইটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া তার নিদ্রা যাওয়া অনুচিত।” মানাকিবুস সাহাবা, ইমাম নববী সহীহ বলেছেন, আল-আযকার।
হজরত আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহ আ’নহু বর্ণনা করেন, রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এই দুটি আয়াত যথেষ্ট হবে; অর্থাৎ সারারাত সে জিন ও মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রতিটি অপ্রিয় বিষয় থেকে তাকে হেফাজত করা হবে।” সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। 
___________________________________
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

(২৮৫) রাসুল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে, যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর প্রেরিত নবী-রাসুলগণের প্রতি। তারা বলে, “আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা।” তারা আরো বলে, “আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। আমাদেরকে তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।”
(২৮৬) আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায়, যা সে করে। (মুমিনরা বলে) “হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছিলে। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের মাওলা (মালিক)। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে তুমি বিজয়ী কর।” (আমিন)
___________________________________
ইমাম ইবনে কাসীর রহি’মাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, “মুআ’য রাদিয়াল্লাহু আ’নহু এই সুরা শেষ করে ‘আমীন’ বলতেন।’’
সুতরাং, সুরা বাক্বারার শেষ দুইটি আয়াত পড়ে এর মধ্যে দুয়াগুলো কবুলের জন্য “আমিন” বলা যাবে। আর সুরা বাক্বারার শেষ দুইটি আয়াত মাগরিবের পরে বা রাতের বেলা ঘুমানোর পূর্বে যেকোন সময়ে পড়লে এর ফযীলত পাওয়া যাবে।
___________________________________
শানে নুযূলঃ
সাহাবারা ক্বুরআনের প্রতিটা আয়াত গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের জীবনের সাথে বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী ছিলেন। সহীহ মুসলিম, প্রথম খণ্ড, অনুচ্ছেদ-৫৮, ২৩৭নং হাদীসে সাহাবীদের অন্তরে ঈমানের প্রতি দৃঢ়তা ও আনুগত্যের সুন্দর উদাহরন ফুটে উঠেছে! মহান আল্লাহ ঈমানদারদের কত সন্নিকটে, কত মহান দয়ালু তার নমুনাও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সুরা বাক্বারার ২৮৪ নম্বর অর্থাৎ এই আয়াতটি নাযিল হলো, “আকাশ সমূহে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর। তোমরা নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করো বা লুকিয়ে রাখো, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। তারপর তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন, এটা তাঁর ইচ্ছার অধীন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্ব শক্তিমান।” সাহাবীদের কাছে এই আয়াত বড়ই কঠিন মনে হলো। তাই তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমাদেরকে সালাত, সাওম, জিহাদ, সাদকা ইত্যাদির বোঝা চাপিয়া দেয়াও হয়েছে, যা আমাদের জন্য এমনিই কষ্টকর। আবার এখন আপনার উপর এই আয়াত নাযিল হয়েছে, যা আমাদের সামর্থ্যের বাইরে।”
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে কি তোমরা পূর্ববর্তী দুই কিতাবধারী সম্প্রদায় (ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানদের) মতো বলতে চাও? যেমন তারা বলেছিল, “আমরা আদেশ শুনেছি, কিন্তু মানব না।” সুরা আল-বাক্বারাহঃ ৯৩। 
বরং তোমরা বলো, “আমরা আদেশ শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমার কাছে গুনাহ মাফ করার জন্য প্রার্থনা করছি। আর আমাদেরকে তোমার দিকেই ফিরে যেতে হবে।”
যখন সাহাবীরা আয়াতটি পড়ে নিলো এবং তাদের অন্তরেও এর দাগ কাটলো, মহান ক্ষমতাবান আল্লাহ তাআ’লা এর পরক্ষণেই এই আয়াত নাযিল করলেন, “রাসুল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে, যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। আমাদেরকে তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” সুরা বাক্বারাহঃ ২৮৫।
অতঃপর যখন তারা পরিপূর্ণভাবে মনে-প্রানে এই নির্দেশ মেনে নিলেন, পরে তা আল্লাহ তাআ’লা ২৮৪ নম্বর আয়াত মানসুখ (রহিত) করে দিলেন, এবং নাযিল করলেন, “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায়, যা সে করে। (মুমিনরা বলে) হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করে।, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের মাওলা। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে তুমি বিজয়ী কর।” বাক্বারাহঃ ২৮৬।   
আল্লাহ তাআ’লা বললেন, “হ্যা”। অর্থাৎ (২৮৬ নাম্বারে উল্লেখিত) তোমাদের এই আরজি ও আরাধনা আমি কবুল করলাম।
___________________________________
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবাইকে ক্বুরআনুল কারীমের এই বরকতময়, সম্মানিত আয়াত দুইটি পাঠ করার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত মুসিবত, বিপদ-আপদ, রোগ-শোক অতিক্রম করে শান্তিময় ও সুখের জীবন লাভে ধন্য করুন। আমিন। 
___________________________________

#শেয়ার_করুন

©সিরাতল মুস্তাকিম

Wednesday, November 24, 2021


الله
আল্লাহ
অর্থ: আল্লাহ
ফজিলত: প্রত্যহ ১০০০ বার এই নামের যিকির করলে ঈমান দৃঢ় ও মযবুত হয়।
الرحمن
আর রাহমান
অর্থ: পরম দয়ালু
ফজিলত: প্রত্যেক নামাযের পর ১০০ বার পড়লে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার অন্তর থেকে সব ধরনের কঠোরতা ও অলসতা দূর হয়ে যাবে।
الرحيم
আর-রহী'ম
অর্থ: অতিশয়-মেহেরবান
ফজিলত: প্রত্যেক নামাযের পর ১০০ বার করে পাঠ করলে, ইনশাআল্লাহ্‌ পৃথিবীর সকল বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
الملك
আল-মালিক
অর্থ: সর্বকর্তৃত্বময়
ফজিলত: ফযরের নামাজের পর অধিকহারে পাঠ করবে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে ধনবান করে দিবেন।
القدوس
আল-কুদ্দুস
অর্থ: নিষ্কলুষ, অতি পবিত্র
ফজিলত: প্রত্যহ শেষ রাতে (উয়া কুদ্দূসু) নামুটি ১০০০ বার পড়লে রোগ ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা যায়।
السلام
আস-সালাম
অর্থ: নিরাপত্তা-দানকারী, শান্তি-দানকারী
ফজিলত: এই নামটি ১১৫ বার কোন রুগির উপর পরে ফু দিবে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে সুস্থতা ও আরোগ্য দান করবেন।
المؤمن
আল-মু'মিন
অর্থ: নিরাপত্তা ও ঈমান দানকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি কোন ভয়-ভীতির সময় ৬৩০ বার এ নামটি পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ সে সব ধরনের ভয়-ভীতি ও অনিষ্ঠ থেকে নিরাপদ থাকবে। যে ব্যক্তি এ নামটি পাঠ করবে বা লিখে নিজের সাথে রাখবে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা করবেন।
المهيمن
আল-মুহাইমিন
অর্থ: পরিপূর্ন রক্ষণাবেক্ষণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি গোসল করে ১১৫ বার এ নামটি পরবে, গোপন বিষয়াদি উপর অবগত হবে। সর্বদা পরলে সব বিপদ থেকে মুক্তি পাবে।
العزيز
আল-আ'জীজ
অর্থ: পরাক্রমশালী, অপরাজেয়
ফজিলত: ৪০ দিন পর্যন্ত যে ব্যক্তি এ নামটি ৪০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে সম্মানী ও অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দিবেন।
الجبار
আল-জাব্বার
অর্থ: দুর্নিবার
ফজিলত: যে ব্যক্তি প্রতি দিন সকাল-বিকাল ২২৬ বার পড়লে যাবতীয় জুলুম থেকে মুক্তিপাবে।
المتكبر
আল-মুতাকাব্বিইর
অর্থ: নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
ফজিলত: এই নাম সর্বদা পড়লে মান সম্মান বৃদ্ধি পায় ও উন্নতি লাভ হয়।
الخالق
আল-খালিক্ব
অর্থ: সৃষ্টিকর্তা
ফজিলত: যে ব্যক্তি সাত দিন পর্যন্ত ধারাবাহিক ১০০ বার এ নামটি পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ সকল বিপদআপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
البارئ
আল-বারী
অর্থ: সঠিকভাবে সৃষ্টিকারী
ফজিলত: বন্ধ্যা নারী যদি সাতদিন রোযা রাখে এবং পানি দ্বারা ইফতার করার পর (ইয়া বারী-উল মুছউইর) ২১ বার পাঠ করবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ তার পুত্র সন্তান লাভ হবে।
المصور
আল-মুছউইর
অর্থ: আকৃতি-দানকারী
ফজিলত: বন্ধ্যা নারী যদি সাতদিন রোযা রাখে এবং পানি দ্বারা ইফতার করার পর (ইয়া বারী-উল মুছউইর) ২১ বার পাঠ করবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ তার পুত্র সন্তান লাভ হবে।
الغفار
আল-গফ্ফার
অর্থ: পরম ক্ষমাশীল
ফজিলত: জুম্মার নামাযের পর ১০০ বার পড়লে গুনাহ মাফ হয় ও অভাব দূর হয়।
القهار
আল-ক্বাহার
অর্থ: কঠোর
ফজিলত: ক্রমাগত আল্লাহ্‌র এই নাম পাঠ করলে, পার্থিব ভালবাসা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন এবং পরিবর্তে আল্লাহ্‌র ভালবাসা আপানার হৃদয়ে সহজাত হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ্‌
الوهاب
আল-ওয়াহ্হাব
অর্থ: সবকিছু দানকারী
ফজিলত: চাশতের নামাযের পর সেজদায় গিয়ে ১০০ বার পড়লে অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
الرزاق
আর-রজ্জাক্ব
অর্থ: রিযকদাতা
ফজিলত: ফজরের নামাযের পূবে এই নামের যিকির করলে রিযিক বৃদ্ধি পায়।
الفتاح
আল ফাত্তাহ
অর্থ: বিজয়দানকারী
ফজিলত: ফযরের নামাজের পর দুই হাত বুকের উপর রেখে ৭০ বার এই নাম পাঠ করলে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার অন্তর ঈমানের জ্যোতি দ্বারা আলোকিত হবে।
العليم
আল-আ'লীম
অর্থ: সর্বজ্ঞ
ফজিলত: এ নাম সর্বদা পড়লে জ্ঞান বৃদ্ধি পায় গুনাহ মাফ হয় ও মনের কপাট খুলে যায়।
القابض
আল-ক্ববিদ্ব'
অর্থ: সংকীর্ণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি ৪০ দিন এই নামটি ৪ টুকরা রুটির উপর লিখে খাবে, তিনি ক্ষুদা, পিপাসা ও ব্যথা বেদনা থেকে রক্ষা পাবে।
الباسط
আল-বাসিত
অর্থ: প্রশস্তকারী
ফজিলত: প্রতিদিন নামাজের পর মুনাজাত করে ১০ বার আল্লাহ্‌র এই নাম পাঠ করেন, আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে ধনী বনিয়ে দিবেন এবং কখন কার মুখাপেক্ষী হবে না।
الخافض
আল-খফিদ্বু
অর্থ: অবনতকারী
ফজিলত: প্রত্যহ ৫০০ বার এ নামের ‍পাঠ করলে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন ও সকল সমস্যা দূর করে দিবেন।
الرافع
আর-রফীই'
অর্থ: উন্নতকারী
ফজিলত: ১০০ বার পড়লে, আল্লাহ্‌ আপানকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সমগ্র সৃষ্টির স্বাধীনতা প্রদান করা হবে। ইনশাআল্লাহ্‌
المعز
আল-মুই'জ্ব
অর্থ: সম্মান-দানকারী
ফজিলত: প্রতি সোমবার ও শুক্রুবার মাগরিব নামাজ পরে এই নাম্ ৪০ বার পড়লে মর্যাদা বৃদ্ধি পায় ও সকলের নিকট সম্মানের পাত্র হয়।
المذل
আল-মুদ্বি'ল্লু
অর্থ: (অবিশ্বাসীদের) বেইজ্জতকারী
ফজিলত: নামাযের পর সেজদায় গিয়ে ৭৫ বার পড়ে দোয়া করলে শত্রুতা হতে মুক্তি পাওয়া যায় ।
السميع
আস্-সামিই'
অর্থ: সর্বশ্রোতা
ফজিলত: শুক্রুবার চাশতের পর ৫০০/১০০/৫০ বার পড়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
البصير
আল-বাছীর
অর্থ: সর্ববিষয়-দর্শনকারী
ফজিলত: জুম্মার নামাযের পর ১০০ বার পড়লে দৃষ্টিতে আলো ও অন্তরে জ্যোতি সৃষ্টি হবে।
الحكم
আল-হা'কাম
অর্থ: অটল বিচারক
ফজিলত: যে ব্যক্তি অধিক হারে পাঠ করবে, আল্লাহ্‌ তালা তার জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের দ্বার খুলে দিবেন।
العدل
আল-আ'দল
অর্থ: পরিপূর্ণ-ন্যায়বিচারক
ফজিলত: শুক্রবার রাতে বিশ টুকরা রুটির উপর লিখে খেলে আল্লাহ্‌ তায়ালা সৃষ্টজীবকে তার অনুগত করে দিবেন।
اللطيف
আল-লাতীফ
অর্থ: সকল-গোপন-বিষয়ে-অবগত
ফজিলত: যে ব্যক্তি ১৩৩ বার পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার খাদ্যে বরকত হবে এবং তার সব কাজ সুন্দরভাবে পূর্ণ হবে।
الخبير
আল-খ'বীর
অর্থ: সকল ব্যাপারে জ্ঞাত
ফজিলত: ৭ দিন পর্যন্ত এ নাম পড়তে থাকলে গোপন তথ্য অবগত হওয়া যায়।
الحليم
আল-হা'লীম
অর্থ: অত্যন্ত ধৈর্যশীল
ফজিলত: যে ব্যক্তি এই নামটি কাগজে লিখে, পানিতে এটি ডুবিয়ে রেখে এবং সে পানি শস্য ক্ষেত্রে অথবা কোন জিনিসের উপর ছিটিয়ে দিবে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তার ফসল নষ্ট করবেনা, বরং সংরক্ষন করবেন।
العظيم
আল-আ'জীম
অর্থ: সর্বোচ্চ-মর্যাদাশীল
ফজিলত: নিয়মিত এ নামের যিকির করলে তার মর্যাদা, সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ হবে।
الغفور
আল-গফুর
অর্থ: পরম ক্ষমাশীল
ফজিলত: অধিকহারে এই নাম পাঠ করলে, সব রোগবালাই, দুঃখ ও দুর্দশা অপসারণ করা হয়, আল্লাহ্‌র দোয়া তার সম্পদ এবং সন্তানাদির উপর পরবে। ইনশাআল্লাহ্‌
الشكور
আশ্-শাকুর
অর্থ: গুনগ্রাহী
ফজিলত: কোন ব্যক্তি যদি, আর্থিক, মানসিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যার সম্মুখিন হন, ৪১ বার আল্লাহ্‌ এর এই নাম পাঠ করলে, আল্লাহ্‌ শীঘ্রই উদ্ধার প্রদান করবেন। ইনশাআল্লাহ্‌
العلي
আল-আ'লিইউ
অর্থ: উচ্চ-মর্যাদাশীল
ফজিলত: এ নাম সর্বদা পাঠ করলে ও লিখে সঙ্গে রাখলে ইনশাআল্লাহ্‌ মর্যাদার উচ্চতা, সচ্ছলতা ও উদ্দেশ্যে সফলতা লাভ করবে।
الكبير
আল-কাবিইর
অর্থ: সুমহান
ফজিলত: কোন ব্যক্তি কে যদি তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে ৭ দিন রোযা রেখে এবং প্রতি দিন এই নাম ১০০০ বার পাঠ করলে, আল্লাহ্‌ তার পদ কে সম্মান এবং মর্যাদা দিয়ে পুনরায় ফিরিয়ে দিবেন। ইনশাআল্লাহ্‌
الحفيظ
আল-হা'ফীজ
অর্থ: সংরক্ষণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি অধিক হারে পাঠ করবে এবং লিখে নিজের কাছে রেখে দিবে, ইনশাআল্লাহ্‌ সে সব ধরনের ভয়-ভীতি ও অনিষ্ঠ থেকে নিরাপদে থাকবে।
المقيت
আল-মুক্বীত
অর্থ: সকলের জীবনোপকরণ-দানকারী
ফজিলত: ৭ বার পড়ে পানিতে ফু দিয়ে সে পানি শিশুকে খাওয়ালে তার কান্না বন্ধ হয়।
الحسيب
আল-হাসীব
অর্থ: হিসাব-গ্রহণকারী
ফজিলত: কোন ব্যক্তি যদি কোন মানুষ বা কোন জিনিস কে ভয় পান, তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু আট দিনের জন্য রাতে ও সকালে ৭০ বার এবং ৭০ বার (হাসবিয়াল্লাহুল-সাসিবু) পাঠ করলে, আল্লাহ্‌ তার ভয় ও মন্দ জিনিসের বিরুদ্ধে সুরুক্ষা প্রদান করবে। ইনশাআল্লাহ্‌
الجليل
আল-জালীল
অর্থ: পরম মর্যাদার অধিকারী
ফজিলত: এই নামটি মেশক ও জাফরান দিয়ে লিখে নিজের কাছে রাখবে বা ধুয়ে খেলে, তার সম্মান, মহিমা এবং মর্যাদা দিবে। ইনশাআল্লাহ্‌
الكريم
আল-কারীম
অর্থ: সুমহান দাতা
ফজিলত: ঘুমানোর পূবে এ নামের যিকির করলে আলেম ও সৎ লোকের মর্যাদা লাভ হয়।
الرقيب
আর-রক্বীব
অর্থ: তত্ত্বাবধায়ক
ফজিলত: এই নাম ৭ বার প্রতিদিন পাঠ করলে এবং নিজের ও তার পরিবারের উপর ফুঁ দিলে, আল্লাহ্‌ ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে আপনাকে এবং আপনার সম্পদ রক্ষা করবেন। ইনশাআল্লাহ্‌
المجيب
আল-মুজীব
অর্থ: জবাব-দানকারী, কবুলকারী
ফজিলত: সর্বদা এই নাম পাঠ করলে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার দোয়া কবুল করেন আর নামটি লিখে নিজের কাছে রাখলে সে বিপদ থেকে মুক্তি পাবে।
الواسع
আল-ওয়াসি'
অর্থ: সর্ব-ব্যাপী, সর্বত্র-বিরাজমান
ফজিলত: অধিক পরিমাণে এ নামের যিকির করলে আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে প্রকাশ্য ও ভিতরগত অমুখাপেক্ষিতা ও বরকত দান করবে।
الحكيم
আল-হাকীম
অর্থ: পরম-প্রজ্ঞাময়
ফজিলত: ক্রমাগত এই নাম পাঠ করলে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তার জন্য জ্ঞান বিজ্ঞানের দ্বার খুলে দিবেন।
الودود
আল-ওয়াদুদ
অর্থ: (বান্দাদের প্রতি) সদয়
ফজিলত: ১০০ বার পড়ে খাদ্যে ফু দিয়ে স্বামী স্ত্রী থেলে তাদের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি হয়।
المجيد
আল-মাজীদ
অর্থ: সকল-মর্যাদার-অধিকারী
ফজিলত: প্রত্যহ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়ে শরীরে ফু দিলে সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
الباعث
আল-বাই'ছ'
অর্থ: পুনুরুজ্জীবিতকারী
ফজিলত: নিদ্রার পূর্বে বুকের উপর হাত রেখে ১০০০ বার পড়লে জ্ঞান ও হেকমত বৃদ্ধি পায়।
الشهيد
আশ্-শাহীদ
অর্থ: সর্বজ্ঞ-স্বাক্ষী
ফজিলত: এ নামের যিকির বেশী বেশী পড়লে অন্তরের খারাপ বাসনা দূর হয়।
الحق
আল-হা'ক্ব
অর্থ: পরম সত্য
ফজিলত: যদি, পরিবারের কোন সদস্য নিখোঁজ বা পলাতক বা জিনিসপত্র চুরি হয়ে থাকলে, চারকোণ বিশিষ্ট কাগজের চতুষ্কোণে নামটি লিখে সেহরীর সময় হাতের তালুর উপর রেখে আকাশের দিকে উঠিয়ে দোয়া করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ যে কোন ব্যক্তি অথবা জিনিস পাওয়া যাবে এবং ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকবে।
الوكيل
আল-ওয়াকিল
অর্থ: পরম নির্ভরযোগ্য কর্ম-সম্পাদনকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি বিপদ আপদের সময় ভয়ে অধিক হারে এই নামটি পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
القوي
আল-ক্বউইউ
অর্থ: পরম-শক্তির-অধিকারী
ফজিলত: জুম্মার পর এ নামের যিকির করলে যুলুম থেকে বাচা যায়।
المتين
আল-মাতীন
অর্থ: সুদৃঢ়
ফজিলত: যে কোন ভদ্রমহিলা এর বুকের দুধের না থাকলে এক টুকরো কাগজের উপর আল্লাহ্‌ এর এই নাম লিখে পানিতে ডুবিয়ে রেখে তারপর এটি পান করলে তার বুকের মধ্যে দুধ আসবে ইনশাআল্লাহ্‌
الولي
আল-ওয়ালিইউ
অর্থ: অভিভাবক ও সাহায্যকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি অধিক হারে এই নামটি পড়বে সে সৃষ্ট জীবের গোপন তথ্য সম্পর্কে জানবে।
الحميد
আল-হা'মীদ
অর্থ: সকল প্রশংসার অধিকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি ৪৫ দিন পর্যন্ত ধারাবাহিক ৯৩ বার নির্জনতায় নামটি পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ সকল অসৎ স্বভাব দূর হয়ে যাবে এবং তার থেকে উত্তম কার্যাবলী প্রকাশ পাবে।
المحصي
আল-মুহছী
অর্থ: সকল সৃষ্টির ব্যপারে অবগত
ফজিলত: যে ব্যক্তি রুটির ২০ টি টুকরোর উপর প্রতিদিন ২০ বার এই নামটি পড়ে ফু দিবে এবং খাবে তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ সৃষ্টি জগত তার অনুগত হয়ে যাবে।
المبدئ
আল-মুব্দি'
অর্থ: প্রথমবার-সৃষ্টিকর্তা
ফজিলত: যে ব্যক্তি সেহরীর সময় গর্ভবতি নারীর পেটের উপর হাত রেখে ৯৯ বার এই নামটি পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌ না তার গর্ভপাত হবে, না সময়ের আগে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হবে।
المعيد
আল-মুঈ'দ
অর্থ: পুনরায়-সৃষ্টিকর্তা
ফজিলত: কোন ব্যক্তি হারিয়ে গেলে যখন গৃহের সকল ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়বে তখন হারানো ব্যক্তিকে ফেরত আনার জন্য গৃহের ৪ কোণে ৭০ বার নামটি পড়বে, ইনশাআল্লাহ্‌ হারানো ব্যক্তি ৭ দিনের মধ্যে ফেরত আসবে অথবা তার কোন খবর পাওয়া যাবে।
المحيي
আল-মুহ'য়ী
অর্থ: জীবন-দানকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি অসুস্থ হবে সে অধিক হারে পাঠ করবে অথবা কোন রোগীর উপর ফু দিবে তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ সুস্থ হয়ে যাবে।
المميت
আল-মুমীত
অর্থ: মৃত্যু-দানকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি আত্মার নিয়ন্ত্রনে না থাকে সে শয়ন কালে বক্ষদেশে হাত রেখে এই নামটি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়বে। আল্লাহ্‌ চান তো তার নফস বাধ্য ও অনুগত হয়ে যাবে।
الحي
আল-হাইয়্যু
অর্থ: চিরঞ্জীব
ফজিলত: যে ব্যক্তি প্রতিদিন ৩০০০ বার এই নামটি পাঠ করবে ইনশাআল্লাহ্‌ সে কখনও অসুস্থ হবেনা।
القيوم
আল-ক্বাইয়্যুম
অর্থ: সমস্তকিছুর ধারক ও সংরক্ষণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি এই নামটি শেষ রাতে অধিকবার পড়বে, ইনশাআল্লাহ্‌ মানুষের হৃদয়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
الواجد
আল-ওয়াজিদ
অর্থ: অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী
ফজিলত: খাওয়ার সময় পড়লে ওই খাদ্য কলবের শক্তি ও নূর সৃষ্টির সহায়ক হবে।
الماجد
আল-মাজিদ
অর্থ: শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি নির্জনতায় এই নামটি অধিক পাঠ করলে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার অন্তরের ভিতর আল্লাহ্‌ এর জ্যোতি প্রকাশ হতে শুরু করবে।
الواحد
আল-ওয়াহি'দ
অর্থ: এক ও অদ্বিতীয়
ফজিলত: প্রত্যহ ১০০০ বার পাঠ করলে মন থেকে ভয় ভীতি দূর হয়ে যাবে।।
الصمد
আছ্-ছমাদ
অর্থ: অমুখাপেক্ষী
ফজিলত: যে ব্যক্তি ভোর রাতে অথবা কিছু রাত থাকতে সেজদায় মাথা রেখে ১১৫ অথবা ১২৫ বার এই নামটি পড়বে, তার বাহ্যিক ও ভিতরগত ভাবে সত্যবাদিতা লাভ হবে এবং কোন অত্যাচারি দ্বারা পিষ্ট হবেনা।
القادر
আল-ক্বদির
অর্থ: সর্বশক্তিমান
ফজিলত: যে ব্যক্তি ওজু করার সময় অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ধৌত করার সময় প্রতিটি জোড়ার উপর এই নামটি পড়বে, সে কখন জালিমের থাবায় আবদ্ধ হবেনা। কোন শত্রু তার উপর বিজয় লাভ করতে পারবেনা।
المقتدر
আল-মুক্ব্তাদির
অর্থ: নিরঙ্কুশ-সিদ্বান্তের-অধিকারী
ফজিলত: যদি কেউ এই নামটি সর্বদা পড়ে তবে তার উদাসীনতা স্মরনের দ্বারা পরিবর্তিত হবে। যে ব্যক্তি নিদ্রা থেকে উঠার পর ২০ বার এই নামটি পড়বে, তবে তার সব কাজ ঠিক এবং সমাধান হয়ে যাবে।
المقدم
আল-মুক্বদ্দিম
অর্থ: অগ্রসারক
ফজিলত: যে ব্যক্তি যুদ্ধের সময় অধিক হারে পরবে অথবা লিখে নিজের কাছে রাখবে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে সামনে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা দান করবেন এবং শত্রুদের থেকে নিরাপদ রাখবেন।
المؤخر
আল-মুয়াক্খির
অর্থ: অবকাশ দানকারী
ফজিলত: প্রতিদিন ১০০ বার আল্লাহ্‌ এর নাম পাঠ করলে, তিনি দুর্মূল্য এবং আল্লাহর প্রিয় হয়ে যাবেন । ইনশাআল্লাহ্‌
الأول
আল-আউয়াল
অর্থ: সর্বপ্রথম
ফজিলত: কোন ব্যক্তি পুত্র সন্তান এর ইচ্ছা পোষণ করলে, ৪০ দিনের জন্য ৪০ বার নামটি পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ্‌ তার উদ্দেশ্য পুরন হবে।
الأخر
আল-আখির
অর্থ: অনন্ত, সর্বশেষ
ফজিলত: যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০০ বার পরবে, তার অন্তর থেকে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কিছুর ভালবাসা দূর হয়ে যাবে।
الظاهر
আজ-জ'হির
অর্থ: সম্পূর্নরূপে-প্রকাশিত
ফজিলত: প্রত্যহ ইশরাক এর পর ৫০০ বার পড়লে চোখের দৃষ্টি শক্তি ও অন্তরে নূর লাভ হয় ।
الباطن
আল-বাত্বিন
অর্থ: দৃষ্টি হতে অদৃশ্য
ফজিলত: প্রত্যহ ৩৩ বার পড়লে গোপন রহস্য জানা যাবে। তার অন্তরে আল্লাহ্‌র ভালবাসা সৃষ্টি হবে।
الوالي
আল-ওয়ালি
অর্থ: সমস্ত-কিছুর-অনিভাব্ক
ফজিলত: এ নামের নিয়মিত যিকির করলে আল্লাহ বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করে ।
المتعالي
আল-মুতাআ'লি
অর্থ: সৃষ্টির গুনাবলীর উর্দ্ধে
ফজিলত: যে ব্যক্তি অধিক বার পরবে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার সমস্যা দূর হবে।
البر
আল-বার্
অর্থ: পরম-উপকারী, অণুগ্রহশীল
ফজিলত: কোন ব্যক্তি ৭ বার আল্লাহ্‌র এই নাম পাঠ করে সন্তান জন্মের পর তার সন্তানের উপর ফুঁ দিলে, আল্লাহ্‌ বিপর্যয় থেকে তার সন্তান কে সুরক্ষা করবে। ইনশাআল্লাহ্‌
التواب
আত্-তাওয়াব
অর্থ: তাওবার তাওফিক দানকারী এবং কবুলকারী
ফজিলত: চাশতের নামাযের পর সেজদায় গিয়ে এ নামটি ৩০০ বার পড়বে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার সত্য তওবা লাভ হবে। যে ব্যাক্তি এ নামটি বার বার পাঠ করবে, তার সকল কর্ম সহজ হবে। যদি কোন অত্যাচারীর উপর ফুঁ দেয়া হয় তবে ইনশাআল্লাহ্‌ তা থেকে মুক্তি লাভ হবে।
المنتقم
আল-মুনতাক্বিম
অর্থ: প্রতিশোধ-গ্রহণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি ন্যায়ের উপর থাকে এবং শত্রু থেকে প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা না থাকে, সে তিন জুম্মা পর্যন্ত অধিকহারে (ইয়া মুনতাক্বিমু) পড়বে, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তার থেকে প্রতিশোধ নিয়ে নিবেন।
العفو
আল-আ'ফঊ
অর্থ: পরম-উদার
ফজিলত: যার প্রচুর গুনাহ আছে, সে লোকটি প্রতিনিয়ত এ নামটি পড়লে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
الرؤوف
আর-রউফ
অর্থ: পরম-স্নেহশীল
ফজিলত: যে ব্যক্তি দশবার দুরুদ শরীফ এবং দশবার এ নামটি পড়বে, তবে ইনশালাআল্লাহ তার ক্রোধ দূর হয়ে যাবে। অন্য রাগান্বিত ব্যাক্তির উপর ফুঁ দিলে তবে তার রাগ দূর হবে।
مالك الملك
মালিকুল-মুলক
অর্থ: সমগ্র জগতের বাদশাহ্
ফজিলত: যে ব্যক্তি (ইয়া মালিকাল মুলক) সর্বদা পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে লোকদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিবেন। সে কার মুখাপেক্ষী থাকবে না।
ذو الجلال والإكرام
যুল-জালালি-ওয়াল-ইকরাম
অর্থ: মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা
ফজিলত: যে ব্যক্তি অধিকহারে পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তাকে শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান এবং সৃষ্টজগত থেকে অমুখাপেক্ষীতা দান করবেন।
المقسط
আল-মুক্ব্সিত
অর্থ: হকদারের হক-আদায়কারী
ফজিলত: যে ব্যাক্তি এ নামটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়বে, শয়তানের আনিদিষ্টতা ও কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকবে। যদি ৭ বার পড়ে তবে সে উদ্দেশ্য অর্জন হবে।
الجامع
আল-জামিই'
অর্থ: একত্রকারী, সমবেতকারী
ফজিলত: যার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধব বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে, সে চাশতের সময় গোসল করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ্‌র এই নাম ১০০ বার পাঠ করলে তার পরিবারের হারানো সদস্য শিগ্রই খুঁজে পাবেন। ইনশাআল্লাহ্
الغني
আল-গণিই'
অর্থ: অমুখাপেক্ষী ধনী
ফজিলত: যে ব্যাক্তি প্রতিদিন ৭০ বার এই নামটি পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার অর্থ-সম্পদ বরকত দান করবেন। ইনশাল্লাল্লাহ সে কারো মুখাপেক্ষী হবে না।
المغني
আল-মুগণিই'
অর্থ: পরম-অভাবমোচনকারী
ফজিলত: যে ব্যাক্তি শুরু ও শেষে ১১ বার দুরুদ শরীফ পড়ে এগার শত এগার বার ওযীফার ন্যায় এ নামটি পড়বে, তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে বাহিরগত ও ভিতরগত ধনী করে দিবেন।
المانع
আল-মানিই'
অর্থ: অকল্যানরোধক
ফজিলত: যদি স্ত্রির সাথে ঝগড়া-বিবাদ অথবা তিক্ততা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে বিছানায় শোয়ার সময় ২০ বার এ নামটি পড়বে, ইনশাল্লাহ ঝগড়া-বিবাদ ও তিক্ততা দূর হয়ে যাবে এবং পরস্পর ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে যাবে।
الضار
আয্-যর
অর্থ: ক্ষতিসাধনকারী
ফজিলত: সকাল সন্ধা এ নামের ‍যিকির করলে সকল ভাল কাজে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ।
النافع
আন্-নাফিই'
অর্থ: কল্যাণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি কোন পরিচিত স্থানে পোঁছাবে এবং শুক্রবার রাতে যে ব্যক্তি নৌকা অথবা অন্য কোন যানবাহনে আরোহণের পর অধিকহারে পড়তে থাকবে, ইনশাআল্লাহ্‌ ইচ্ছানুযায়ী কাজ হবে।
النور
আন্-নূর
অর্থ: পরম-আলো
ফজিলত: যে ব্যক্তি জুমার রাতে সাত বার সুরা নুর এবং এক হাজার বার এ নামটি পড়বে, তবে ইনশাআল্লাহ্‌ তার অন্তর আল্লাহর জ্যোতি দারা আলকিত হয়ে যাবে।
الهادي
আল-হাদী
অর্থ: পথ-প্রদর্শক
ফজিলত: যে ব্যক্তি হাত উঠিয়ে আকাশ পানে মূখ করে এ নামটি অধিক হারে পড়বে, অবশেষে মুখমন্ডলে হাত মুছে নিবে, ইনশাআল্লাহ্‌ তার পূর্ণ হেদায়েত লাভ হবে, আর মারেফাত পন্থীদের মধ্যে অন্তভুক্ত হয়ে যাবে।
البديع
আল-বাদীই'
অর্থ: অতুলনীয়
ফজিলত: যে ব্যক্তি কোন দুশ্চিন্তা বিপদাপদ অথবা কোন সমস্যা সম্মুখে আসে, সে ১০০০ বার এ নামটি পড়বে ইনশাআল্লাহ্‌ সমস্যার সমাধান লাভ হবে।
الباقي
আল-বাক্বী
অর্থ: চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর
ফজিলত: জুম্মার রাতে যে ব্যক্তি এ নামটি ১০০ বার পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সব ধরনের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে নিরাপরাদ রাখবেন।
الوارث
আল-ওয়ারিস'
অর্থ: উত্তরাধিকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি প্রত্যহ সূর্যোদয়ের পূর্বক্ষণে ১০১ বার পড়বে, ইনশাআল্লাহ্‌ সে যাবতীয় দুঃখ- বেদনা, চিন্তা- ভাবনা, কঠোরতা ও বিপদ থেকে মুক্তি থাকবে।
الرشيد
আর-রাশীদ
অর্থ: সঠিক পথ-প্রদর্শক
ফজিলত: যে ব্যক্তি নিজের কোন কাজ বা উদ্দেশ্য সমাধানের কোন তদবির বুঝে না আসে, মাগরিব ও এশার মাঝে সে (আর-রাশীদু) নামটি ১০০০ বার পড়বে, তবে ইনশাআল্লাহ্‌ স্বপ্নে তদ্বির দেখা যাবে, অথবা অন্তরে ঢেলে দেয়া হবে।
الصبور
আস-সবুর
অর্থ: অত্যধিক ধৈর্যধারণকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে এ নামটি একশত বার পড়বে, ইনশাআল্লাহ্‌ সেদিন সে সকল বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে ও বরকত লাভ হয়। শত্রু ও হিংসুকদের মুখ বন্ধ থাকবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গুণবাচক আমলটি করার তাওফিক দান করুন।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
 ► রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম/২৬৭৪,৬৮০৪]
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
 ভালো লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন♥️
#পরবর্তী_পোষ্ট_পেতে_ফলো_দিয়ে_সাথেই_থাকুন।
 ♥️♥️♥️--ধন্যবাদ--♥️♥️♥️

Monday, November 8, 2021

অমুসলিম দেশে অভিবাসনের পরিণতি




অমুসলিম দেশে অভিবাসনের পরিণতি: একটি বিপদ সংকেত পূর্ন অভিমত:
মরহুম শায়খ আলী আল তানতাভী (রহ.)-এর নাতনি মুমিনাহ আল-আতম লিখেছেন:

আমার দাদা, আলি আল তানতাভি, কানাডায় আমাদের স্থায়ী অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দুরদর্শী ছিলেন। আমাদের জন্য একটি সুযোগ ছিলো এবং সেটা সহজ ছিলো । আমাদের বাচ্চারা তখনও ছোট ছিল। আমি তার যুক্তি সম্পর্কে সন্দিহান ছিলাম এবং একজন তরুণ পিতামাতা হিসাবে আমার অহংকার আমাকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছিল যে, তিনি খুব কঠোর এবং শুধুমাত্র তার সন্তানদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চান। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।
.
এখন আমি তার সাথে একমত এবং যখনই আমি এমন সব লোকদের গল্পের মুখোমুখি হই, যাদের সন্তানরা পশ্চিমের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে তাদের ধর্ম হারিয়েছে, তখনই তার সেই বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের কথা মনে পড়ে। তার যুক্তি ছিল: “অমুসলিম দেশে স্থায়ী বসবাসকে বেছে নেওয়া আপনার সন্তানকে ইসলাম থেকে হারানোর দিকে নিয়ে যায়। আপনি যদি আপনার সন্তানদের রক্ষা করতে সক্ষমও হন তবুও আপনি তাদের সন্তানদের এবং তাদের নাতি-নাতনিদের রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না। কেন তাদের ধর্ম হারানোর দায়ভার আপনি বহন করবেন?
.
একজন বন্ধুর একটি পোস্ট দেখে আমার সেই সব কথা মনে পড়ে গেল:সে লিখেছে,
“আজকে আমাকে একজন বলেছে, “যদি আমার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকত আমি তুরস্কের পরিবর্তে আমেরিকায় অভিবাসন করতাম। যেখানেই আমি অভিবাসন করি না কেন, এটা কখনই আমাকে বা আমার পরিবারকে প্রভাবিত করবে না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমি কিভাবে আমার বাচ্চাদের বড় করছি। আমি তাদের কোথায় বড় করছি এটা নয়।”
.
আমি তাকে সতর্ক করতে বাধ্য হয়েছিলাম যে “স্থান পরিবেশ” সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র একজন তাত্ত্বিক নয়, যারা পশ্চিমে বসবাসের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন তাদের জিজ্ঞাসা করুন। আমি তাকে আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলতে শুরু করলাম:
.
৯ বছর আগে আমাকে রামাদ্বানে নামের পরিবারের (একটি বৈরুত পরিবার) পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমি পারিবারিক বংশতালিকা দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম এবং সারা বিশ্বে পরিবারের সকল সদস্যের জন্য (অনলাইন) অনুসন্ধান করেছিলাম। আমি ৫০০০ সদস্য খুঁজে পেয়েছি এবং তাদের পরিসংখ্যান বিস্ময়কর ছিল। এই পরিবারে যারা পশ্চিমে চলে গেছে তাদের একটি তালিকা এখানে দেওয়া হল:
যারা হিজরত করেছে
- 100 বছর আগে: তাদের সন্তানদের 96% মুসলিম নয়
- 80 বছর আগে: তাদের 75% নাতি-নাতনি মুসলিম নয়
- 60 বছর আগে: তাদের নাতি-নাতনিদের 40% খ্রিস্টান
- 40 বছর আগে: তাদের 25% নাতি ইসলাম ত্যাগ করেছে

প্রায় ৮০ বছর আগে একজন ‘শেখ’ ইকুয়েডরে চলে আসেন এবং সেখানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। তিনি তার সন্তানদের ইসলামের উপর লালন পালনের জন্য জোর দিয়েছিলেন। আজ তার নাতি-নাতনিদের কেউই মুসলিম নয়। বেশিরভাগ পরিবারেরই এই অবস্থা। ব্যক্তিগতভাবে, আমার দাদার ৪৮ জন নাতি-নাতনির মধ্যে ১৬ জন মুসলিম নন। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করি, এবং আমি ৪০ বছর ধরে আমেরিকান নাগরিক।
.
ইকুয়েডরে, বৈরুতের রামাদ্বান পরিবারের ৯৮ জন রয়েছে। রামাদ্বান পরিবারের পূর্বপুরুষরা ১৯২৩ সালে সেখানে চলে আসেন। এখন ৯৮ জন নাতি-নাতনির সবাই খ্রিস্টান। আমি জর্জ, ক্রিশ্চিয়ান এবং এমিলিও রামাদ্বানের সাথে দেখা করেছি

আমি এমিলিওকে তুরস্কের আদানায় পারিবারিক ইউনিয়নে আসতে রাজি করিয়েছিলাম। আমি তাকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলাম শুধুমাত্র তার পরিবারের মুসলিম ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য। এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক ছিল.

যদিও এই পরিসংখ্যানগুলি তুরস্কের মতো একটি ইসলামিক দেশে চলে যাওয়া পরিবারগুলির মধ্যে একই নয়।

ইংরেজি হতে অনুবাদ: উম্মে মারইয়াম

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...