খুব গুনাহ করে ফেলেছেন ?
খুব খারাপ লাগতেছে ?
অনুশোচনা আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন ?
গুনাহ করার পরই কিন্তু আমরা অনুশোচনায় ভুগি ।
আমার দ্বারা গুনাহটা হওয়া ঠিক হইনি৷
আমার মতো মানুষও এমন কাজ
করতে পারে ।
এমন অনুশোচনায় আমরা প্রায়ই ভুগি ।
গুনাহ হয়ে গেলে অনুশোচনা আসলে ইস্তিগফার তো পড়বেনই ।
আর যে ব্যক্তি গুনাহ করার পরই আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চায় তার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন ।
আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজদের প্রতি যুলম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে ? আর তারা যা করেছে, জেনে শুনে তা তারা বার বার করে না।
সুরাহ আল ইমরান, আয়াত ১৩৫ ।
যাই হোক গুনাহ করার পর ইস্তেগফার পড়বো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাবো এটা আমরা সবাই জানি৷
আমি বলতে চাইছিলাম অন্য কথা ।
যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেন কুরআনের অন্য আরেকজায়গায় বলেন ।
إِنَّ الْحَسَنٰتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاٰتِ
নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ।
সুরাহ হুদ, আয়াত ১১৪
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুম্বন দিয়ে ফেলে, পরে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এসে বিষয়টি জানায়। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন সে ব্যক্তি বলল: এটা কি শুধু আমার জন্য? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: না, আমার উম্মাতের সকলের জন্য এ সুযোগ।
সহীহ বুখারী হা: ৪৬৮৭, সহীহ মুসলিম হা: ২৭৬৩
অর্থাৎ ভাল আমল খারাপ কাজের পাপ দূরীভূত করে দেয়। যেমন সালাত একটি ভাল কাজ, কোন গুনাহ হয়ে থাকলে সালাত আদায় করলে তা মোচন হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “যদি তোমাদের কারোর বাড়ির দরজার সামনে প্রবাহিত নদী থাকে এবং সে প্রত্যহ তাতে পাঁচবার করে গোসল করে, তবে তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে কি?” সাহাবীগণ উত্তরে বললেন: না, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটাই দৃষ্টান্ত হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের। এগুলোর কারণে আল্লাহ তা‘আলা ভুল-ত্র“টি ও পাপরাশি ক্ষমা করে দেন। (
সহীহ বুখারী হা: ৫২৮)
অন্য হাদীসে এসেছে:
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআহ থেকে অপর জুমুআহ এবং এক রমযান থেকে অন্য রযমান পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন গুনাহ হলে আল্লাহ তা‘আলা সে সালাত আদায়কারী, জুমুআহ আদায়কারী ও সিয়াম পালনকারীকে ক্ষমা করে দেন। তবে কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
সহীহ মুসলিম হা: ২৩৩
এছাড়াও সৎ আমলের ফযীলত অনেক রয়েছে।
যদি কেউ খারাপ কাজ করার পর কোন ভাল কাজ করে তাহলে তার ভাল কাজের কারণে তার খারাপ কাজের অপরাধ মাফ হয়ে যায়। আর সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়তে হবে ।
-আমিরুল ইসলাম

No comments:
Post a Comment