দু‘আর মধ্যে কীভাবে কান্না করা যায়?
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
অনেকেই দু‘আর মধ্যে কাঁদতে চান, কিন্তু পারেন না। কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে—ইনশাআল্লাহ—চোখে পানি আসবে। মুমিন বান্দার চোখের পানি অনেক দামি জিনিস। কারণ চোখের পানি দিয়ে করা দু‘আগুলো আল্লাহ সাধারণত ফিরিয়ে দেন না, যদি দু‘আর যাবতীয় বিষয় ঠিকঠাক থাকে। অতএব, দু‘আর মধ্যে কান্না করতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
.
১) দু‘আর জন্য অত্যন্ত নিরিবিলি কোনো পরিবেশ বেছে নিন। তাহাজ্জুদের সময়টা দু‘আর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সবাই ঘুমে আর আপনি আল্লাহর সান্নিধ্যে—এই অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ! তবে, তাহাজ্জুদ সম্ভব না হলে অন্য সময়ে হলেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে, নিরবতার দিকে খেয়াল রাখবেন।
.
২) দু‘আর মধ্যে কিছু সময় পরপর আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো দিয়ে খুব আবেগ নিয়ে ডাকতে থাকুন। যেমন : ইয়া গাফফার! (হে ক্ষমাশীল), ইয়া রাহমান! (হে করুণাময়)।
.
৩) ইচ্ছাকৃত কবিরা গোনাহ থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে থাকতে হবে। ভুলক্রমে হয়ে গেলে, সময় না নিয়ে আন্তরিকভাবে দ্রুত তাওবাহ করুন। গোনাহ আমাদের চোখ দুটোকে শুষ্ক করে দেয়; অন্তরকে বানায় পাথরের চেয়েও কঠিন।
.
৪) দীর্ঘ সময় নিয়ে দু‘আ করুন। আনুমানিক ২০-৩০ মিনিট (এর কম-বেশিও হতে পারে)। ধরে নিন, আল্লাহ আপনার সামনে আর আপনি তাঁর কাছে রোনাজারি করছেন। আপনি নিজেকে সেই ফাঁসির আসামী মনে করুন, একটু পরই যার ফাঁসি কার্যকর হবে। এমতাবস্থায় তাকে মাফ চাওয়ার অফার করা হলো। মাফ পেলে ফাঁসির দণ্ডাদেশ মওকুফ করা হবে। (কেমন হবে তখন আপনার কান্না আর ফরিয়াদ!?)
.
৫) আবেগঘন কথা দিয়ে দু‘আ করুন। যেমন ইবনুল কাইয়িম (রাহ.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমি ছাড়াও তোমার অনেক বান্দা আছে, কিন্তু তুমি ছাড়া তো আমার আর কোনো রব নেই! তুমি যদি আমাকে তাড়িয়ে দাও, তবে আমি কোথায় যাব? কার কাছে আশ্রয় চাবো?’
.
কিংবা এভাবে বলুন, ‘আল্লাহ! তোমার রহমতের সমুদ্রের সামনে আমার গোনাহগুলো অতি সামান্য। আমি তো শুধু তোমার রহমতেরই ভিখারী। তুমি তো ক্ষমা করতেই ভালোবাসো! হে আমার মালিক! আমাকে শাস্তি দিলে তো তোমার কোনো লাভ নেই। আমার মতো পাপিষ্ঠকে ক্ষমা করে দিলেও তোমার কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না। তুমি তো সর্বশক্তিমান! পরোয়াহীন!’
.
অথবা, এভাবে বলতে পারেন, ‘হে আমার রব! সবাই যখন ঘুমে/নিজ কাজে ব্যস্ত, তখন আমি—তোমার এক গোনাহগার বান্দা—কেবলই তোমার ভয়ে, তোমার প্রতি ভালোবাসায় আরামের শয্যা ত্যাগ করে তোমার কাছে চলে এসেছি। আমাকে ততুমি শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়ো না। তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিলে আমি কোথায় যাব? কার ককাছে যাব?’
.
৬) কয়েকটি পরিচিত আবেগঘন দু‘আ অর্থসহ শিখে নিন।
সেগুলো থেকে আপনার চাহিদামত দুআ করতে পারেন।
৭) দু‘আর মধ্যে বিশেষভাবে মৃত্যুর সময়ের কঠিন মুহূর্তটি স্মরণ করুন (যদি তখন কালিমা নসিব না হয়, তখন কী অবস্থা হবে! কিংবা যদি মৃত্যুকালীন ফিতনায় পড়তে হয়, তবে তো ধ্বংস অনিবার্য!) এজন্য কেঁদেকেটে বলবেন; ইমানি মৃত্যু নসিবের জন্য ফরিয়াদ জানাবেন। এছাড়া কবরের প্রশ্নোত্তর-পর্ব, কবরের দুই পাশ থেকে আসা প্রচণ্ড চাপ, হাশরের মাঠে মাত্র কয়েক মাইল দূরে মাথার উপর সূর্যের প্রচণ্ড তাপ, জাহান্নামের ভয়াবহ গর্জন—এই দৃশ্যগুলো কল্পনা করে করে দু‘আ করুন।
.
আপাতত এগুলোই।
বলা হয়ে থাকে, ‘কান্না না আসলে কান্নার ভান করো।’ এটা জরুরি।
যেভাবে সম্ভব কান্না করতে চেষ্টা করুন। অভ্যস্ত হয়ে গেলে মাঝেমধ্যে দেখবেন, দু‘আয় কখনো আবেগি হয়ে যাচ্ছেন; শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছেন, বুক ফেটে যাচ্ছে!
ঐ সময়ের প্রশান্তির অনুভূতিটা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না।
যারা দু‘আয় কাঁদতে পারেন না, তারা আল্লাহর কাছে কাঁদার তাওফিক চেয়ে দু‘আ করুন। তবে, মূল বিষয় হলো হৃদয়কে বিগলিত করে দেওয়া।
এদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
কারও যদি শত চেষ্টার পরও কান্না না আসে, কিন্তু হৃদয় বিগলিত হয়, আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত হয়, তবে ইনশাআল্লাহ্ এটাই যথেষ্ট।
.
#Tasbeeh

No comments:
Post a Comment