কোন না কোন কারণবশত অনেকেরই কাপড় নাপাক হয়ে যায়। পরনের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবী বা বিছানার চাদর নাপাক হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কোন বিষয় নয়। আবার! ঈবাদত কবুলের অন্যতম পূর্ব শর্ত হচ্ছে শরীর ও কাপড় পাক-পবিত্র থাকা। নামাজ সহ অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ আ'মল কবুল না হওয়ার পিছনের বড় একটি কারণ হচ্ছে কাপড় ও শরীর পাক না থাকা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহ নিজে পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকে পছন্দ করেন ও ভালোবাসেন..।” [সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ২২২]
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “ইসলাম পরিচ্ছন্ন। সুতরাং, তোমরা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করো। নিশ্চয়ই জান্নাতে কেবল পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিই প্রবেশ করবে।” [ফাইজুল কাদির, হাদিস : ৩০৬৫]
...
শরিয়তের বিধান হলো, “চাদরে কিংবা কাপড়ে নাপাকি লাগলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে চাপ দিয়ে নিংড়াতে হবে। ভালো করে নিংড়িয়ে ধোয়ার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় কিংবা দাগ থাকে তাতে কোনো দোষ নেই। এতেই চাদর কিংবা কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে।” [হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃষ্ঠা নং ১৬১]
নাপাক কাপড়চোপড় বালতির পানিতে পরিষ্কার করা আমাদের সমাজে কমন একটি কাজ। দ্বীনি শরিয়াহ এর পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় ভয়ংকর এই কাজটি অনেকেই করে থাকেন। ভয়ংকর এ কারণেই বললাম যে, বালতির পানিতে নাপাক কাপড় ধৌত করার ফলে উক্ত কাপড়টি পাক-পবিত্র হওয়াতো দূরের কথা বরং বালতির অন্য কাপড়গুলো উল্টো অপবিত্র হয়ে যায়। সাধারণত আমরা বালতিতে শুধু একটি কাপড় ধৌত করিনা। একসাথে অনেকগুলো কাপড় ধৌত করা হয়ে থাকে। এর ফলে অপবিত্র কাপড় যখন ধৌত করা হয় তখন ঐ নাজাসাত তথা অপবিত্রতা পানিতে মিশ্রিত হয়ে বাকি কাপড়গুলোও অপবিত্র বা নাপাক করে ফেলে।
অপবিত্র কাপড় ধৌত করার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে নির্দিষ্ট নাজাসাত আগে ছুটিয়ে ফেলা। সেক্ষেত্রে যে জায়গায় নাপাকি লেগেছে ঐ জায়গাটি টেপের পানিতে ধৌত করা। নাপাকি দূর হওয়ার পর বালতিতে একসাথে অনেক কাপড় ধৌত করলে তখন আর কোন সমস্যা নাই। আর নাপাকি বা নাপাক জায়গা চিহ্নিত করা না গেলে ঐ কাপড় বালতিতে পরিষ্কার করা যাবেনা। আলাদাভাবে ঐ কাপড় টেপের পানিতে ধুয়ে ফেলাই উত্তম।
_____________________________________
শেখ মুযযাম্মিল হুসাইন শুভ
#শেয়ার_করুন
©সিরাতল মুস্তাকিম

No comments:
Post a Comment