Saturday, January 2, 2021

জ্বরের শারঈ চিকিৎসা


রাত ১২ টা। হঠাৎ করে পুরো গা গরম হয়ে গেল। বুঝতে আর বাকী রইল না—জ্বর আসার বার্তা দিচ্ছে! এরইমধ্যে পুরো গা আগুনের মত গরম হয়ে গেছে। জ্বর পুরো শরীরে উত্তাপ তৈরি করে ফেলেছে। শরীরকে একদম কাবু করে ফেলছে। এত রাতে কোন ফার্মেসীও খোলা নেই। আর বাসায় কোন ঔষধও নেই। জ্বরের মাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। খুব অশান্তি লাগছে। ঘুমাতেও পারছে না। এখন আপনি কী করবেন?

এখন তো ঘরোয়া পদ্ধতি ছাড়া বিকল্প কোন মাধ্যম নেই। আর সেই ঘরোয়া পদ্ধতিটা যদি হয় শারঈ ট্রিটমেন্ট, তাহলে তো "নুরুন আ'লা নুর"! যদি শারঈ ট্রিটমেন্ট নিতে চাই, তাহলে দেখতে হবে জ্বরের ব্যাপারে ডাক্তারি ট্রিটমেন্ট ছাড়া আমাদের রাসুল (সাঃ) এর কোন ট্রিটমেন্ট আছে কিনা। তিনি এই ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন কিনা! যেই ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে ডাক্তার এবং ওষুধ ছাড়াও আপনি আপনার জ্বরের উত্তাপ দূর করতে পারবেন।

আসুন তাহলে দেখি এ ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) কোনো দিকনির্দেশনা আছে কিনা! হাদিসের আলোকে জানা যায়—জ্বর জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ থেকে সৃষ্ট। কেননা জাগতিক যত উত্তাপ রয়েছে সবকিছুর মূল উৎস হচ্ছে জাহান্নামের আগুন। সুতরাং জ্বরের উত্তাপ জাহান্নামের আগুন থেকেই সৃষ্ট। আর আগুনকে ঠান্ডা করার মাধ্যম হচ্ছে পানি। এজন্যই এই জ্বরের শারঈ ট্রিটমেন্ট হচ্ছে পানি । অর্থাৎ পানি দ্বারা এর ট্রিটমেন্ট করা হয়। আর জ্বরের ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) দিকনির্দেশনাও এমনটাই।

বর্ণিত আছে, রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃনবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জ্বর হচ্ছে জাহান্নামের একটি উত্তাপ। তোমরা পানি ঢেলে তা ঠান্ডা কর।(জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০৭৩)
এ ব্যাপার আর একটি হাদিস,

এ ব্যাপারে আরেকটি হাদীস রয়েছে—
আসমা বিনতে আবু বক্কর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
জ্বরাক্রান্ত কোন নারীকে তার নিকট আনা হলে তিনি পানি চেয়ে নিয়ে তার গলদেশে (বা বুকে) ঢালতেন আর বলতেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এটাকে পানি ঢেলে ঠান্ডা করো। তিনি আরো বলেছেনঃ এটা হলো জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৭৪)

এদু'টো হাদিস থেকে আমরা জানতে পেরেছি—রাসুল (সাঃ) জ্বরের উত্তাপ দূর করতে পানি ব্যবহার করতে বলেছেন। আর পানি দ্বারা জ্বরের উত্তাপ দূর করা অনেকটাই সহজলভ্য। এতে ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়িও করতে হয় না, আবার টাকাও খরচ হয় না।

জ্বরের চিকিৎসায় ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে। জ্বরের চিকিৎসায় পানি ব্যবহার বৈজ্ঞানিকভাবেও স্বীকৃত। অনেক বিজ্ঞ ডাক্তাররাই এ ব্যাপারে একমত যে, জ্বর নিবারণে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার অধিক কার্যকর। এর চেয়ে সহজ লভ্য আর কোন মাধ্যম নেই। জ্বর বেড়ে গেলে "শরীরে, মাথায়" পানি ঢেলে এর তাপ নিবারণ করা প্রাচীনকাল ধরেই চলে এসেছে। সুতরাং, জ্বরের ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) এর দিকনির্দেশনা বিজ্ঞানসম্মত এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

জ্বর খুবই কমন একটা রোগ। মানুষ যে সমস্ত রোগে আক্রান্ত হয় তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জ্বর। জ্বর সাধারণত ছোট বড় সকলেরই হয়ে থাকে। এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। প্রায়ই আমরা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকি। কেউ বছরের ২/৩ বার আবার কেউ মাঝে মাঝে আক্রান্ত হয়ে থাকে। মোটকথা জ্বর অতি ব্যাপক একটা রোগ। যে রোগে আক্রান্ত সবাই হয়ে থাকে।

জ্বর হলে আমরা বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট নিয়ে থাকি। ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে তার দেওয়া ঔষুধ সেবন করতে থাকি। এন্টিবায়োটিক সহ বিভিন্ন ঔষুধ নিয়ে থাকি। আর বেশি বেশি এন্টিবায়োটিক নিলে, পরবর্তীতে এন্টিবায়োটিক ছাড়া জ্বর নিবারণ করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। আবার এতে প্রচুর পরিমাণ টাকাও খরচ হয়। এজন্য সহজেই রাসুল (সাঃ) দিক নির্দেশনা অনুযায়ী পানি দ্বারা ট্রিটমেন্ট করা উচিত।

|| শারঈ ট্রিটমেন্ট ||
লেখক~ মাহমুদ বিন নূর

No comments:

Post a Comment

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...