Wednesday, December 23, 2020

পুরুষদের সম্পর্কে সাতটি বিষয় যা নারীদের অবশ্যই বুঝা উচিৎ


পুরুষদের সম্পর্কে সাতটি বিষয় যা নারীদের অবশ্যই বুঝা উচিৎ [পর্ব-১]
- শায়খ ড. ইয়াসির কাদি
- অনুবাদঃ জাবাল আত তারিক   

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু 
আমরা আজকে নারী সম্পর্কে পুরুষদের বুঝা উচিত এমন সাতটি মৌলিক বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করবো যা (আমি মনে করি) প্রতিটি পুরুষের জানা দরকার এবং পুরুষ সম্পর্কে নারীদের বুঝা উচিত এমন সাতটি মৌলিক বিষয় আলোচনা করবো যা নারীদেরও জানা থাকা জরুরী।  
চলুন নারীদের দিয়েই শুরু করা যাক। পুরুষদেরকে বুঝতে হলে নারীদের কি কি বিষয় বুঝতে হবে? ইনশাল্লাহ, এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে- এই সাতটি বিষয় বুঝার মাধ্যমে আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক আরও উন্নত হবে, আনারা আরও ভালো করে বুঝতে পারবেন যে, একজন পুরুষ আসলে কি চায় এবং সে কিসের জন্য মুখিয়ে থাকে।   

(এক) এই সাতটি বিষয়ের প্রথমটি হল- সম্মান ও মর্যাদা   
সম্ভবত এই সাতটি বিষয়ের সবগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। একজন পুরুষ তাঁর স্ত্রীর কাছে আসলেই কি চায় ? সে সবচেয়ে বেশি যেটা চায় সেটা হল- সম্মান। সম্মান বলতে আমি বোঝাচ্ছি যে, যদি একজন পুরুষ তাঁর স্ত্রীর সম্মান অর্জন করতে পারে, যদি সে অনুভব করে যে তাঁর স্ত্রী তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে, তখন সে অনুভব করে যে সে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। সে পৌরষ অনুভব করে। সে মনে করে যে সে নেতৃত্বে রয়েছে এবং আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা কুরআনে বলেছেন- আররিজালু কওয়ামুনা আলান নিসা। মানে, পুরুষ হল নারীর উপর। যার অর্থ হল, পুরুষ হচ্ছে নারীর যত্নকারী ও সরবরাহকারী। এমনকি আধুনিক মনোবিদরাও পরিপূর্ণভাবে এই মানবিক গুনের বিষয়টাকে এভাবেই বুঝেছেন। একজন পুরুষকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়ার মাধ্যমে একজন নারী এটা প্রতীয়মান করে যে- পুরুষটি হচ্ছে তাঁর (স্ত্রীর) ঢাল তথা রক্ষাকারী, সে হচ্ছে তাঁর অভিভাবক, তাঁর জন্য যোদ্ধার মতো। সুতরাং পুরুষকে সম্মান/মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যমে নারী আসলে ঐ পুরুষের মধ্য থেকে সর্বোত্তমটা বের করে আনে। এর মাধ্যমে নারী তাঁর স্বামীর মধ্য থেকে ভালোবাসা, কোমলতা ও প্রতিরক্ষাকে বের করে আনে। আর, কোন নারী চাইবে না যে তাঁর স্বামী তাকে ভালোবাসুক এবং তাকে প্রতিরক্ষা প্রদান করুক? তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে একজন নারী তাঁর স্বামীকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করে? নিশ্চয়ই এটা এমন না যে সে আসলো আর বলল “আমি তোমাকে সম্মান করি!” এটা এভাবে হয় না। সম্মান ও মর্যাদা কোনও কথা বা বিবৃতি নয়। সম্মান ও মর্যাদা হচ্ছে আচার-আচরণ ও মনোভাবের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সম্মান ও মর্যাদা হচ্ছে জীবনের ঢঙ। সুতরাং, আমি আপনাদেরকে কিছু উদাহরণ ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে চাই, যে কিভাবে সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করতে হয়। 

(ক) তাঁর জ্ঞান ও বিচার বিবেচনাকে সম্মান করুন। এটা দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে, যখন সে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় তখন নেতিবাচক ভাবে নেবেন না। এ ধারণা করে বসবেন না যে, তাঁর এই সিদ্ধান্তটি উপযুক্ত হয় নি। এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাঁর যোগ্যতাকে সন্দেহ করবেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ বা সন্দেহ করার মাধ্যমে আপনি আসলে তাকে ছোট করে ফেলেন। এতে সে মনে করে, আপনি তাকে শিশুবৎ ভাবছেন, এটা তাকে এমন অনুভূতি দেয় যে সে বুদ্ধিদীপ্ত নয়, সে কোয়ালিফাইড নয়। আপনার স্বামীকে বাচ্চাদের মতো জ্ঞান করবেন না। একটি খাঁটি উদাহরণ হল, যদি আপনার স্বামী এমন কিছু কিনতে চায় যা কেনার ব্যাপারে আপনি রাজি নন, তাকে সেটা করতে দেন, এটা তাঁর টাকা। যদি আপনার স্বামী গাড়ি ড্রাইভ করার সময় মনে করে যে ডানে যেতে হবে এবং আপনি সুনিশ্চিত ভাবে জানেন যে বাড়িটা আসলে বামে- আপনাকে বামেই যেতে হবে। যদি সে আপনার পরামর্শ না চায়- তাকে জাস্ট এটা করতে দিন। সব সময় তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মন্তব্য করার মাধ্যমে, তাঁর সিদ্ধান্তকে সব সময়েই সন্দেহ করার মাধ্যমে, আপনি আসলে এটা দেখাচ্ছেন বা ব্যক্ত করছেন যে- আপনি তাকে বিশ্বাস করছেন না। অবশ্যই আমি বলছি না যে আপনারা সম্পূর্ণভাবে পুরোপুরি বশবর্তী হয়ে যান। বরং আমি বলছি যে, সাধারণ নিয়ম হচ্ছে স্ত্রীরা তাঁদের স্বামীর সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে এমনকি যদি সে ভুলও করে। আর এই বিষয়টি আমাকে আমার দ্বিতীয় পয়েন্টের দিকে ধাবিত করে। 

(খ) ধরুন স্ত্রী তাঁর স্বামীর সাথে আছে। স্বামীটি গাড়ি ড্রাইভ করছে। তাঁরা তাঁদের বন্ধুর বাসায় যাচ্ছে। ভদ্রলোক একদিকে চলে যাচ্ছেন কিন্তু স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই জানেন যে তাদেরকে অন্যদিকে যেতে হবে। এখন স্ত্রী মন্তব্য করতে চান যে- তুমি ভুল পথে যাচ্ছো, ডানে যাও অথবা বামে যাও। এখানে স্ত্রী কিছুটা বস বনে গেল। কথার টোনে আদেশের স্বর চলে এলো। মানে, স্ত্রী এখন কর্তৃত্বের জায়গায় বসে গেল। আচ্ছা! কি হত যদি যদি স্ত্রী এভাবে চিন্তা করতেন যে- “আমি জানি সে ভুল পথে চলে যাচ্ছে, যাক সমস্যা নেই!” এখানে আমার ২য় পয়েন্ট হচ্ছে- তাকে তাঁর নিজের ভুল থেকেই শিখতে দিন। আপনি এখানে তাঁর মা হয়ে যেতে চেষ্টা করবেন না। মনে করুন সে সত্যিই ভুল রাস্তায় গাড়ি উঠিয়ে দিল। আচ্ছা তাহলে ভাবুন তো কি হবে? এর পর থেকে সে তাঁর নিজের ভুল থেকে শিখবে এবং সে একই ভুল আবার করতে যাবে না। একজন পুরুষ হিসেবে আমি একটা সত্য কথাই বলি, যদি আমি একটা ভুল করি তাহলে আমি শুধু আমার উপরেই বিরক্ত হতে পারি। এখানে আমি অন্যের উপর বিরক্ত হতে পারি না। কিন্তু ধরুন অন্য কেউ আমাকে একদিকে মোড় ঘুরতে বলল। মনে করেন সে আমার স্ত্রীই, এবং দেখা গেল সেই আসলে ভুল দিক নির্দেশনা দিয়েছে। তাহলে অবশ্যই এটা একটা বড় ধরনের বিরক্তির কারণ ঘটাবে। সুতরাং সামনে যখন সে কোনও ভুল করবে সেটা ধরতে যাবেন না। শুধু এটা বুঝে নিন যে- একজন পুরুষ ভুল করবে এবং সেই ভুল থেকে সে শিখবেও। এটা হচ্ছে তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের অন্যতম একটি উপায়, যে আপনি তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনও সন্দেহ পোষণ করেন না। এখান থেকে আমি আরেকটি পয়েন্টে যেতে পারি।  

(গ) যখন সে কোনও কাজ করতে নেয় তখন তাঁর সামর্থ্য সম্পর্কে আস্থা রাখুন। ধরুন, কোথাও পাইপ থেকে পানি চুইয়ে পড়ছে। আর আপনার স্বামী সেটা মেরামত করতে ঝাঁপিয়ে পড়লো। সে তাঁর পুরুষত্ব দেখাতে চায়। সে ঘর থেকে রেঞ্জ, টেপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বের করে আনলো। সে খুব আগ্রহের সাথে জিনিসটি মেরামত করতে এগিয়ে গেল। যেন সে আপনার যুদ্ধজয়ী দিগবিজয়ী সেনাপতির মত একটি জটিল ও ঝামেলাপূর্ণ সমস্যা মেরামত করতে আসলো। এমন মুহূর্তে আপনার এই যুদ্ধজয়ী দিগবিজয়ী সেনাপতিকে স্বাগত ও উৎসাহ জানানোর পরিবর্তে আপনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলেন, হাসলেন, এবং ব্যাঙ্গ করে বললেন "হাহ! তুমি! তুমি এটা ঠিক করতে পারবে না বরং এটা আরও নষ্ট করবে। প্লিজ তুমি একজন মিস্ত্রী ডেকে আন!" দেখুন! এক্ষেত্রে কি হয়? আপনি কি সমস্যাটা দেখতে পাচ্ছেন? একজন পুরুষ একটা বিপদ থেকে আপনাকে উদ্ধার করতে চাচ্ছে। আপনার স্বামী দিনটাকে রক্ষা করতে চাচ্ছে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী মনে করে যে তাঁর স্বামী জানেইনা কাজটা কিভাবে করতে হয়। এটা কিন্তু অপমান জনক এবং কষ্টের। এটা তাঁর আত্মমর্যাদাকে খর্ব করে। দিন শেষে এমন আচরণের অর্থ হল- আপনি জানিয়ে দিচ্ছেন যে মামুলী এই পানি চুইয়ে পড়ার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আপনি আপনার স্বামীর প্রতি আস্থা রাখছেন না। যদি আপনি এই মামুলী ব্যাপারে আপনার স্বামীর প্রতি আস্থা রাখতে না পারেন তাহলে কিভাবে নিজের স্বামী হিসেবে, প্রকৃত রক্ষাকারী হিসেবে এবং আপনার সন্তানের বাবা হিসেবে আপনি তাঁর প্রতি আস্থা রাখবেন? সোজা কথা হচ্ছে, তাকে কাজটা করতে দিন। সে নিজের কাছেই নিজে বোকা হিসেবে ধরা খাক। তাকে তাঁর ভুল থেকে শিখতে দিন। জানেন! যখনই আপনার স্বামী কোনও কিছু করতে যাবে আপনি প্রায় প্রত্যেকবারেই তাঁকে সফল হিসেবে পাবেন। আপনিও অবাক হবেন। পুরুষ চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। পুরুষ ভেঙ্গে চুরে আবার গড়তে ভালোবাসে। ।বিশ্বাস করুন আর নাই করুন- অধিকাংশ পুরুষই বোকা ও অথর্ব নয়। তাঁরা তাঁদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পারে/ চায় এবং প্রায় সময়েই তাঁরা এতে সফল হয়। কিন্তু যদি স্ত্রী তাকে শুধু ছোট করতে থাকে, অসম্মান করতে থাকে, তাঁর জ্ঞান ও সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ করতে থাকে, তাহলে মূলত সে তাঁর স্বামীকে বোকা, বুদ্ধিহীন ও অযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সাব্যস্ত করে যা তাঁর স্বামীর ব্যক্তিত্বকে চরম ভাবে আঘাত করে। আবারও বলছি, সম্মান ও মর্যাদা দেয়া মানে হল তাঁর জ্ঞান, যোগ্যতা ও সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখা। 

(ঘ) সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের আরেকটি উপায় হল নিজের কথার টোন ও শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সম্মান বজায় রাখা। বিশ্বজুড়ে স্ত্রীদের বিরুদ্ধে সব স্বামীদের সবচাইতে কমন অভিযোগ হল যে, তাঁদের স্ত্রীরা সব সময় প্যান প্যান করতে থাকে (এটা করো ওটা করো/ এটা করো না ওটা করো না- এমন করতেই থাকে)। সব কালচারে সব সমাজেই- পুরুষদের এই কমন অভিযোগ- "আমার ওয়াইফ খালি প্যান প্যান করে”। আচ্ছা, এটা কেন হয়? কারণ (প্যান প্যান করতে থাকলে) পুরুষরা মনে করে যে তাঁর স্ত্রী তাকে অসম্মান করছে। এটা এই অর্থ বহন করে যে, স্বামী যাই করে তাতে সে অযোগ্য ও অক্ষম। মূলত আপনি আপনার স্বামীকে একটি অবুঝ শিশুর মতো জ্ঞান করছেন। প্রিয় মুসলিম বোনেরা! আপনাদেরকে এটা বুঝতে হবে যে, স্বামীর প্রাধান্যের তালিকাটা আর আপনার প্রাধান্যের তালিকাটা এক নয়। একজন স্বামীর অন্য অনেক ডেডলাইন থাকে, দায়িত্ব থাকে। চলুন সেই পানি চুইয়ে পড়ার উদাহরণে ফিরে যাই! ধরুন, আপনার স্বামীকে পাঁচ ছয়বার বলা হয়েছে যে সেখানে পানি চুইয়ে পড়ছে। এবং সে এটা জানে। কিন্তু আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে তাঁর কার্যতালিকায় অন্য অনেক কিছুই রয়েছে। হয়তো তাঁর একটা বড় প্রজেক্টের কাজ পড়ে আছে যেটা এই পানি চুইয়ে পড়ার সমস্যা থেকে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো তাকে দিনান্তে অন্য একটি বড় প্রজেক্টের কাজের প্রস্তুতি নিতে হবে যেটাকে সে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। কোনও সন্দেহ নেই যে, ঐ পানি পড়াটা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু এখানে সময় ও স্থানের ব্যাপার আছে এবং এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, আপনার কথার টোন ও শব্দচয়ন যা আপনার পুনঃ পুনঃ মনে করিয়ে দেয়ার মধ্যে ফুটে উঠে। আর যদি স্বামী তাঁর মতের উপর অটল থাকে অথবা কোনও কাজের প্রস্তাব রাখে- তখন সাথে সাথেই সেটার ব্যাঙ্গপূর্ন খণ্ডন করা থেকে বিরত থাকুন। আবারও বলছি, আমি ওয়াইফকে সম্পূর্ণ অনুগত, বাধ্যগত সমর্পিত হতে বলছি না। আমি বলছি যে, মতানৈক্য ও ভিন্নতর কে মর্যাদা ও সম্মানসূচক উপায়ে উপস্থাপন করতে হবে।  
                                                                            
(ঙ) আপনি যদি আপনার স্বামীকে সম্মান ও মর্যাদা দিতে চান তাহলে কখনোই, কোনও ভাবেই এবং কোনও পরিস্থিতিতেই নিজের স্বামীকে নিয়ে অন্য কারও সামনে কৌতুক করবেন না। এমনকি তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সামনেও না। আমি জানিনা এটাকে আর কিভাবে বাক্য-ভুক্ত করতে হয়, কিন্তু আমি যথা সম্ভব পরিষ্কার ও স্পষ্ট করেই বলতে চাই যে- পুরুষরা খুবই ভঙ্গুর আত্মমর্যাদার অধিকারী হয়ে থাকে। পুরুষদের আত্মসম্মানবোধ খুব বেশি ভঙ্গুর হয়ে থাকে। এটাকে ম্যান প্রাইড বলতে পারেন, ম্যানলিনেস বলতে পারেন- কিন্তু তাঁরা কখনোই চায় না তাঁদের স্ত্রীরা তাদেরকে মানুষের সামনে অসম্মান করুক, ছোট করুক এবং হাস্যরসের পাত্র করুক। বোনদেরকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই- আপনি কি এটা পছন্দ করবেন যদি আপনার স্বামী আপনাকে পাবলিকলি উত্যক্ত করে, আপনার ভেশ-ভুসা-রূপ-সৌন্দর্য সম্পর্কে মন্তব্য করে অথবা বলে যে আপনার ওজন কয়েক কেজি বেড়ে গেছে অথবা এরকম কিছু? আপনি কি এটাকে মজার বিষয় মনে করবেন যদি সে বলে যে তোমার দেহ বুড়িয়ে গেছে অথবা এরকম কোনও কিছু? আপনি যেমন এসব বিষয়ে অনেক স্পর্শকাতর তেমনি মনে রাখবেন, আপনার স্বামীও অন্য অনেক বিষয়ে এরকমই স্পর্শকাতর। একজন পুরুষের ক্ষেত্রে- যদি তাঁকে তাঁর স্ত্রীই সম্মান ও শ্রদ্ধা না করে তাহলে অন্য কে করবে? পক্ষান্তরে যদি তাঁর স্ত্রী তাকে সম্মান করে, তাকে নিয়ে গর্ব করে, তাহলে সেই স্বামী পুরো বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ দিতেও কুণ্ঠা করে না। সে গোটা দুনিয়ার মুখোমুখি দাঁড়াতেও ইতস্তত করে না। 
 
(চ) সুতরাং স্বামীকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়ার অন্যতম আরেক উপায় হচ্ছে, তাঁর ফ্যামিলি ও বন্ধুদের সামনে তাঁর প্রশংসা করা। আপনি এটা তাঁর সামনে কিংবা পেছনে করেন- এমনকি তাঁর অনুপস্থিতিতেও যখন আপনি তাঁর ফ্যামিলির সদস্যদের সামনে বলবেন- “মাশাআল্লাহ আহমাদ আমার ব্যাপারে অনেক কেয়ার করে সে আমার জন্য এটা করে ওটা করে”। এটা নিশ্চিতভাবেই তাঁর কানে পৌঁছাবে। হয়তো তাঁর মা তাকে এটা বলবে কিংবা ভাই বলবে। আপনি কি জানেন! এটা কিভাবে একজন স্বামীর উপর প্রভাব ফেলে, যখন সে জানতে পারে যে, তাঁর স্ত্রী তাকে এভাবে প্রশংসা করে? আপনি কি জানেন! এতে কতটা ভালোবাসাটা উৎপন্ন হবে? আপনি কি জানেন! যে এতে কতটা রহম স্বামীর মন থেকে বেরিয়ে আসবে? যখন সে জানবে যে তাঁর স্ত্রী তাকে এভাবে প্রশংসা করে? আপনি এটা করে দেখেন! অবশ্যই এর বেনিফিট হাতে নাতে পেয়ে যাবেন। আপনি তাকে সামনাসামনিই প্রশংসা করুন। প্রত্যেকটা পুরুষই স্ত্রীর মুখে এটা শুনতে ভালোবাসে যে "তোমায় নিয়ে আমি গর্বিত", "তোমার কাজটা খুব চমৎকার হয়েছে" তাঁর প্রেজেন্টেশনের পরে, অথবা সেই পানি চুইয়ে পড়ার সমস্যা সমাধানের পরে এবং এটা যেকোনো বিষয়ে হতে পারে। প্রত্যেক পুরুষই আত্মসম্মান সচেতন এবং তাঁর স্ত্রী যদি তাকে নিয়ে গর্বিত হয় তাহলে সে গোটা বিশ্বকে জয় করার প্রেরণা বোধ করে। 

(ছ) সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে সর্বশেষ পয়েন্ট হল- যখন স্বামীর প্রতি অসম্মান হয় এমন কিছু আপনি করে ফেলেছেন বলে মনে হয়, তখন সেটাকে স্বীকার করুন এবং তাকে সরি বলুন। আপনার দুঃখবোধ প্রদর্শন করুন। আপনি এটা প্রদর্শন করুন যে আপনি তাঁর সিম্প্যাথি চাচ্ছেন। সোজা কথা, আপনি একজন নারী হন তাহলে আপনার স্বামীকেও আপনি এমন একজন পুরুষ হিসেবে পাবেন যে আপনাকে ভালোবাসে। আপনি যদি আমাদের হাদিস গুলোর দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন যে- আমাদের ধর্ম স্বামীর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা কে ডিমান্ড করে। আর এটার জন্য উপযুক্ত কারণও আছে। আমাদের নবী মুহাম্মদ (স) বলেছেন- আপনারা সবাই এই হাদিস জানেন এবং এই হাদিসটির প্রচুর অপব্যবহারও হয়ে থাকে। কিন্তু তাতে এটা তো বলা যায় না যে এই হাদিসটি হাদিস নয়- রাসুল (স) বলেছেন যে, আমি যদি (আল্লাহ ব্যতিরেকে) অপর কাউকে সিজদা করতে বলতাম, তবে রমণীদেরকে বলতাম যেন তাঁরা তাঁদের স্বামীদেরকে সিজদা করে। (আবূ দাঊদ)। এটি একটি বিখ্যাত হাদিস এবং আমি চাই আমার বোনরা যেন এই হাদিসের পেছনের বেসিক হিউম্যান সাইকোলজির বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করেন। বোনেরা! আপনারা যদি আপনাদের স্বামীকে সম্মান ও মর্যাদার সাথে গ্রহণ করেন তাহলে আপনাদের স্বামীরা আপনাদেরকে যত্ন করবে, আগলে রাখবে, ভরণপোষণ করবে, ভালোবাসবে। কারণ, এটাই একজন সম্মানিত ও হৃদয়বান স্বামী করে থাকেন। পক্ষান্তরে, আপনি যদি তাকে অসম্মানিত করেন তাহলে সে কখনোই আপনার সাথে আপনার চাহিদা মতো আচরণ করবে না।  

ডিসক্লেইমারঃ 
১। আমি ইংরেজিতে বেশ দুর্বল, ফলে অনুবাদের গুণগত মান সর্বোৎকৃষ্ট পর্যায় অর্জন না করলেও ড. ইয়াসির কাদি যা বলতে চেয়েছেন মোটামুটি ব্যক্ত করতে পেরেছি বলে মনে করেছি বিধায় এই অনুবাদটি প্রকাশ করছি। 
২। এই অনুবাদে হাত দেয়ার মূল কারণ হচ্ছে, ইয়াসির কাদি এই টপিকে কথা বলার সময় সাম্প্রতিক নারীবাদের ইসলামিক ওয়েভ দ্বারা প্রভাবিত হন নাই। 
৩। এই অনুবাদটি কয়েক পর্বে প্রকাশ করবো। এ পর্বে সাতটি পয়েন্টের একটি মাত্র পয়েন্ট আলোচনা করা হয়েছে। 
৪। নারীবাদে প্রভাবিতদের কাছে এই লেকচারটি মন-পুত নাও হতে পারে। এর কারণ হল, এই লেকচারটি সম্পূর্ণ ইসলামিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি। ফলে এখানে আধুনিক নারীবাদের দ্বারা প্রভাবিত ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্সের উপস্থিতি নেই। বরং পুরুষ ও নারীকে ইসলাম যেভাবে দেখতে চায়, কোনও প্রকার লুকোছাপা ও এপোলোজেটিক ইতং বিতং ন্যারেটিভ ছাড়া বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। সুতরাং নারীবাদের সেক্যুলার ও মুসলিম ভার্সন- কোনও ভার্সনের জন্যই এখানে কমফোর্ট জোন হয়তো থাকবে না।

No comments:

Post a Comment

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...