Sunday, December 20, 2020

যিনা (ব্যাভিচার) কি?


◾যিনা (ব্যাভিচার) কি।

লজ্জা না করে আমাদের সবারই জানা উচিত।
.
হে মুসলিম ভাই ও বোন!
জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে চাইলে এখনি নিজেকে ফিরাও।
.
নিজের আবেগ আর মনগড়া যুক্তি দিয়ে জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচা যাবেনা।
.
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন "হাতের যিনা হলো গায়রে মাহরামকে (যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ) স্পর্শ করা"। [বুখারী, মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন ৪র্থ খন্ড হাদীস নং - ১৬২১।]
.
আজকাল অবৈধ প্রেম ও সহশিক্ষার কারণে কিংবা অভিনয় জগতে কাজ করার কারণে কিংবা পর্দা সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান না থাকার কারণে গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষ একে অন্যের হাত ধরা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
.
বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখুন উপরের হাদীসের আলোকে তাহলে অহরহ আমরা কোন ধরনের গুনাহের মধ্যে ডুবে আছি...
.
-আচ্ছা যিনা কি শুধুই অবৈধ ভাবে মেলা-মেশা করাকে বলা হয়?
-না!
যিনা অনেক প্রকারের হয়ঃ

১। কোন বেগানা নারী অথবা পুরুষের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা।
২। যৌনতা সম্পর্কিত অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা।
৩। বিবাহ সম্পর্ক ছাড়া অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা।
৪। ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা।
৫। সে সম্পর্কিত খারাপ কথা শোনা কানের যিনা।
৬। যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা।
৭। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।
[বুখারী,মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসাঈ]
.
অথচ আমরা কেবল সর্বশেষ ধাপটিকেই যিনা মনে করে থাকি!!
.
বোন এইবার ভেবে দেখুন আপনি এইসব এর কোনো একটির সাথে জড়িত নয়তো?
.
যিনা হারাম ও কবিরা গুনাহঃ

আল্লাহ তায়ালা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ
তোমরা যিনার ধারে কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ। [বনী-ইসরাঈল: ৩২]
.
যিনার শাস্তিঃ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিলো।
.
আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিলো, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিলো।
.
আমি জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলামঃ
এরা কারা?
জিবরাঈল (আঃ) বললেনঃ
তারা হলো অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ।(বুখারী)
.
যিনাকারীর লজ্জাস্থানের দূর্গন্ধে জাহান্নামবাসী অস্থির হয়ে উঠবে। সেদিন যিনাকারীকে পিপাসা মেটানোর জন্য এই পঁচা পানি দেওয়া হবে।

তাই সবারই উচিত প্রেমিক-প্রেমিকা নামের এই শয়তানি সম্পর্ক চিহ্নিত করা এবং কৃত গোনাহ থেকে তাওবা করে ফিরে আসা।

কারণ,
হাশরের ময়দানে এইসব শয়তানী সম্পর্ক থাকবেনা। থাকবে শুধুই আগুন। সেদিন কেউ কাউকে চিনবেও না, আর বলবে...
.
হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের দেখানো পথে চলতাম, অমুক বন্ধুর ডাকে সাড়া না দিতাম তাহলে আজ আমার এ দশা হতো না।" [সূরা ফুরকান: ২৭-২৮]
.
যদি কেও না জেনে এই অপরাধ করে থাকে এবং খাস দিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করে তবে আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে দেবেন, ইনশা-আল্লাহ। [সূরা ফুরকান :৬৮-৭০]
.
অতএব,
হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা!
সাবধান হও অবাধ যৌনচার থেকে।
.
কারণ কিয়ামতের দিন নিজেদের বোঝা নিদেরকেই উঠাতে হবে, কেউ কারো গুনাহের বোঝা উঠাবে না।
.
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে অভিশপ্ত যিনার হাত থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে সহী বুঝ দান করুন, আমীন!

.সংগৃহীত ও পরিমার্জিত।

No comments:

Post a Comment

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...