"বিক্রিত মাল ফেরত নেওয়া হয় না"
আমরা বিভিন্ন শপিংমলে উপরিউক্ত বাক্যটি লেখা থাকতে দেখি। অনেকসময় নিজেদের দোকানে ও শপিং ব্যাগে লিখে দিই কথাটা। এই মনোভাব ইসলামি আচরণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার ক্রেতা ভাইকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে স্বীয় বিক্রয় রহিত করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার অপরাধের শাস্তি রহিত করে দেবেন।' কে না চায় কিয়ামতের দিন কঠিন মসীবতের সময় তার গুনাহের শাস্তিগুলো রহিত হোক ?
আমরা ঐ জগতে চাই ঠিকই, কিন্তু এই জগতে এই চাওয়াটার পথ রুদ্ধ করে যাই বীরদর্পে!
আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু হাদিস আহরণে এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, ক্ষুধার তাড়নায় মাটিতে গড়াগড়ি খেতেন। তবুও নবিজির সামনে থেকে এক মুহূর্তের জন্য অনুপস্থিত হতেন না। পাছে কোনো হাদিস থেকে বঞ্চিত না হয়ে যান এজন্য!
এই সাহাবিই একবার মদিনার বাজারে দোকান খুলে বসলেন তিন মাস ধরে। একদিন দোকান গুটিয়ে চলে যাচ্ছেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীরা অবাক হয়ে বললেন ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ের লস সহ্য করে টিকে রইলেন, এখন মুনাফার মুখ দেখতে শুরু করার পর ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন? তিনি বললেন, প্রচলিত লাভ-লসের উদ্দেশ্যে আমি দোকান খুলিনি।
: তাহলে কেন ?
: আমি নবিজি সাঃ কে বলতে শুনেছি,
مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا عَثْرَتَهُ ، أَقَالَهُ اللَّهُ عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
(যে ব্যক্তি তার ক্রেতা ভাইয়ের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে স্বীয় বিক্রয় রহিত করবে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার উপর থেকে তার অপরাধের শাস্তি রহিত করে দেবেন।)
ব্যবসা করা ছাড়া বিক্রয় রহিত করার কোনো উপায় ছিল না।
এমনকি তিন মাসের মধ্যে কেউ বিক্রয় রহিত করার জন্য আসেও নি। আজ সকালে একজন এসেছেন। মাল ফেরত রেখেছি। আমার উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেছে। তাই দোকান গুটাচ্ছি।
ব্যবসায়ী ভাই আমার! কিয়ামতের দিন শাস্তি রহিত করণের পথ রুদ্ধ করতে ইচ্ছুক আপনি?
হাদিসটি তিরমিযি, আবু দাউদ-সহ ছোট বড় ৭৬টি হাদিসের কিতাবে এসেছে।

No comments:
Post a Comment