Saturday, December 26, 2020

থাকতে সময়, প্রস্তুতি নাও


রূহ কবজ করে নেয়ার পর একজন মানুষ যখন কবরে শায়িত হয়, কল্পনা করে দেখুন তখন তাঁর কীরূপ দশা হতে পারে!! আমরা সকলেই বিশ্বাস করি যে পাপীদের জন্য শাস্তি স্বরূপ কবরকে সংকুচিত করে দেয়া হবে। সেটা কীভাবে হবে আমরা এ বিষয়ে অজ্ঞ। কিন্তু তবুও আমরা তা বিশ্বাস করি। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং আমাদের এ সম্বন্ধে ধারণা দিয়েছেন, যে কবরের মাটি কিভাবে চারপাশ থেকে চেপে আসবে এবং সংকোচন ঘটবে; কবরে শায়িত ব্যক্তির সাথে কীরুপ আচরণ করা হবে, কিভাবে তারা প্রত্যেকে ফেরেশতাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। এসব ই চিরন্তন সত্য এবং এটা ঘটবে ই।

ফেরেশতারা আসবে এবং মৃত ব্যক্তির সামনে বসবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কেমন করে সম্পাদিত হবে তা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু ফেরেশতা এসে সকল মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করবে, “তোমার রব কে”, “তোমার দ্বীন কি”, “তোমার রাসূল কে” এবং আরো অনেক প্রশ্ন। আমাদের এটা ভাবা বোকামী যে, আমি এই উত্তরসমূহ প্রত্যহ ২০ বার পড়ে মুখস্ত করে নিলাম এবং তাতেই কবরে ফেরেশতাদের কে এই উত্তর দিতে আমরা সক্ষম হবো! যদি আপনি স্বীয় জীবনে আল্লাহকে একমাত্র রব হিসেবে স্বীকার করে তাঁর সকল বিধান মেনে চলেন, রাসূল(সাঃ) এর দেখানো আদর্শ অনুযায়ী নিজের জীবন গড়ে তোলেন, ইসলামকে ই পরিপূর্ণ দ্বীন হিসেবে নিজ জীবনে অনুসরণ করেন, তবেই শুধুমাত্র আপনি এই প্রশ্ন সমূহের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হবেন। আর যদি অনুসরণ না করেন, তবে আপনি কখনোই ফেরেশতাদের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারবেন না।

একজন মুমিন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান এনে নিজের সমগ্র জীবনে আল্লাহ্‌র পছন্দনীয় পথ অনুসরণ করেছেন, তিনিই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে সমর্থ হবেন এবং তাঁকে শান্তিপূর্ণ বিশ্রামস্থলে স্তান দেয়া হবে। তাঁর কবরকে জান্নাতের দিকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অন্যদিকে, একজন বদকার ব্যক্তি; যে আল্লাহ্‌র পথে ফিরে না এসে সর্বদা খারাপ কাজে লিপ্ত ছিলো, তাকে যখন এই প্রশ্নগুলো করা হবে, সে তখন কোনোটার উত্তর ই দিতে পারবে না। সে বলবে, “হ্যা, আমি তো লোকেদের এগুলো নিয়ে বলাবলি করতে শুনেছিলাম। আমি নিজেও তো এ কথাগুলো বলতাম! কিন্তু এখন আমার কিছু মনে পড়ছে না কেনো!”

আমরা নিজেরাও অনেকেই এই ভুলের মাঝে ডুবে আছি। আমরা কোরআন একনাগাড়ে পড়ে যাচ্ছি! কী পড়ছি, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য কি নির্দেশনা দিয়েছেন তা ভেবেও দেখিনা। আমরা কতো বোকা! আমরা কিভাবে গোটা জীবন পার করে দিচ্ছি সৃষ্টিকর্তা আমাদের উদ্দ্যেশ্যে কি বলেছেন তা অবগত হওয়া ছাড়া ই! আমাকে এটা জানতে ই হবে! কারণ যখন আমার মৃত্যু হবে এবং কবরে আমাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন সেই শায়খ আমার হয়ে সুপারিশ করতে আসবেন না, যিনি আমাকে কোরআনের অর্থ বুঝে পড়া হারাম বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বলতে পারবেন না, হে আল্লাহ! আমি তাঁকে কোরআনের অর্থ পড়া থেকে বিরত রেখেছিলাম। তখন দায়ভার নিজ কাঁধে নিয়ে আমাকে বাঁচাতে পারবেন না। 

আল্লাহ আপনাকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। আপনার সকল কাজের জন্য আপনাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা ও আমাদের কর্মপন্থা জানতে হলে আমাকে কোরআন বুঝতে হবে। সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ্‌র কিতাব কোরআন, একমাত্র অকাট্য এবং অবিকৃত পবিত্র গ্রন্থ- যা আপনাকে রাসূল(সাঃ) এর সুন্নাহর দিকে ধাবিত করবে। কিন্তু যদি আপনি সেই গ্রন্থে লিখিত বিষয়াদি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন না ই করেন, তবে আপনি নিজেকে আখিরাতের জন্য কিভাবে প্রস্তুত করবেন?

মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সুউচ্চ দালান কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করার জন্য অর্থ ব্যয় করি এবং অনেক ক্ষেত্রেই লোন করি। নির্দিষ্ট সময় পর পর সেই লোন পরিশোধ করতে হয়, কেননা আমরা সেই সম্পদটির সম্পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করতে চাই। আমি এমন অনেক কে ই দেখেছি, যারা দুনিয়ায় সুন্দর একটি জীবনের প্রত্যাশায় লোন করে বাড়ি করেছিলো; কিন্তু সেই লোন পরিশোধের পূর্বেই আখিরাতে তাঁর একটি প্রাসাদের দরকার হয়ে পড়ে, কেননা সে ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। তাহলে এই লোন করে কি লাভ হলো?

আল্লাহ বলেন,
“ এমন কেউ কি আছে যে আল্লাহকে ঋণ দিতে পারে? উত্তম ঋণ, যাতে আল্লাহ তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে ফেরত দেন। আর সেদিন তার জন্য রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান।” 
[ সূরা হাদীদ, আয়াত-১১ ]

 আল্লাহ্‌র জন্য ই যেকোন কাজ করতে আপনি প্রস্তুত তো? আপনার সময়, শক্তি আল্লাহর জন্য ব্যয় করুন। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য পাপ কাজ থেকে বিরত থাকুন। তাহলে যখন আখিরাতে আপনার একটি প্রাসাদ প্রয়োজন হবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে এই কাজের পুরষ্কার কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবেন। যখন ফেরেশতারা আপনার রূহ কবজ করতে আসবেন, তখন থেকেই আপনি এই শুভ পরিণতির প্রফুল্লতা অনুভব করতে পারবেন। 

বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়,
“যখন ফেরেশতারা কারো রূহ কবজ করতে যাবে, তখন সেই ব্যক্তি দৃষ্টিসীমার মাঝে যেদিকে তাকাবে, কেবল ফেরেশতাদের ই দেখতে পাবে। এবং তারা থাকবে সাদা পোশাক পরিহিত।” 
আল্লাহ আমাদের জন্য সেই দিন কে সহজ করে দিন। আমীন।

যারা ইতোমধ্যে দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন, তাদের মাঝে যারা পরকালে বিশ্বাস করতো না, তারা ইতোমধ্যে ই পরকালীন জীবনে ই আছে। কি বোকামী! তারা চলে গিয়েছেন। আমরা কোথায় যাচ্ছি? নিজেকে কবরের জন্য প্রস্তুত করুন। কবর যেনো আপনার জন্য শাস্তিক্ষেত্র না হয়ে আরামদায়ক স্থান হয়, সেই লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করুন।

এমন একটা দিন আসবে যেদিন আপনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফোনকল অনবরত বাজতে থাকবে, ক্ষুদেবার্তা গুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হাওয়ায় ভাসবে, মানুষজন টুইট করবে, স্ট্যাটাস দিবে। কেবল থাকবেন না আপনি! 

মৃত্যু সংবাদ পেলে আমরা কি করি? ইন্না-লিল্লাহ পড়ি! অনেক সময়, অল্প বয়সে কেউ মারা গেলে কিংবা একদম নিকটের কোন মানুষ মারা গেলে আমরা শোকে বিহবল হয়ে পড়ি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমার মৃত্যুতে সবথেকে বড়ো ক্ষতি আমার তখন ই হবে- যখন আমি প্রস্তুতিবিহীন ভাবে এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো! আমাকে যে যেতে হবে একা! একদম ই নিঃসঙ্গ হয়ে!
 
আপনার বাচ্চাদের কথা ভেবে দেখুন। আপনার সাথে রক্তের সম্পর্কে সম্পর্কিত হবার পূর্বেই তারা আল্লাহর অধিকারভুক্ত! আল্লাহ নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আপনার দ্বারা তাদের অস্তিত্ব প্রদান করেছেন। আল্লাহ ই আপনার বাচ্চাদের প্রকৃত মালিক। আপনি কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই নিয়ামতের দেখাশোনা করার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন। আল্লাহ প্রদত্ত এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় ও এর মাধ্যমে জান্নাত লাভের উপায় আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন। 

আল্লাহ আমাকে একজন সন্তান দিয়েছেন, যে অস্থায়ী সময়ের জন্য আমার সন্তান হিসেবে পরিচিত, আমি যদি আল্লাহর দেয়া এই উপহারের সর্বোত্তম ব্যবহার করি- ইন শা আল্লাহ আমি এই ত্যাগের কারণে জান্নাতে যাবার উপযুক্ত হতে পারি।  

বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টা ও এরূপ। যখন আপনি কাউকে বিয়ে করছেন, এটি এই দুনিয়ার ক্ষণকালীন বন্ধন। কিন্তু এর মাধ্যমেও আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করে জান্নাত লাভ করতে পারবেন, যদি আল্লাহর পছন্দনীয় পন্থায় আপনি অগ্রসর হন। 

তাই, এখন ই প্রস্তুত হবার সময়! সেই দিনের জন্য, যখন আমাদেরকে ভূমিতে শায়িত করা হবে! পরিবারের সবাই আপনাকে একা রেখে ফিরে যাবে আপন কাজে! যখন একজন ব্যক্তি কবরবাসী হয়, তার সাথে এই নশ্বর দুনিয়ার কোন মানুষ ই সাথী হিসেবে থেকে যেতে পারে না! 

একজন ব্যক্তির ঘটনা মনে পড়ে গেলো। সে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলো, “ আমি মারা যাবার পর তুমি কী করবে, আরেকটি বিয়ে করে নিবে কী”? উত্তরে স্ত্রী জানিয়েছিলো, যে সে তার বোনের সাথে থাকবে। স্ত্রী তখন স্বামীকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, যে সে কী করবে! স্বামী উত্তর দিলেন, “ আমিও তোমার বোনের সাথে ই থাকবো”।

যদিও এ ঘটনাটি হাস্যরসাত্নক! কিন্তু ভেবে দেখুন, আজ বাদে কাল কী হবে সেটা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে, চিন্তা আছে! এমনকি আমাদের স্বামী/স্ত্রী মারা গেলে আমরা কী করবো সেটাও আমরা ভাবি! কিন্তু আমি নিজেও যে যেকোন মূহুর্তে মারা যেতে পারি, সে কথা আমরা বেমালুম ভুলে বসে আছি! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। মৃত্যুর সময় আসার পূর্বেই আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবার তাওফিক দান করুন। 

কোন একজন ব্যক্তি মারা যাবার পর কেবল তার আমলনামা-ই তার সাথে রয়ে যাবে। সম্পদ? সেটা তার কাছে তো রইবে ই না, বরং তা আরো ফ্যাসাদের জন্ম দিবে। তার উত্তরাধিকারেরা এই সম্পদ নিয়ে কলহ করে একে অপরের মুখ দেখা বন্ধ করে দিবে। তবুও আমরা সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে নিজের আখিরাত ধ্বংস করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত! ব্যতিক্রম অবশ্য ই আছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে বিদায় নেবার পর সময়ের পরিক্রমায় একদিন আপনাকে কেউ মনে রাখবে না এটাই স্বাভাবিক! কে এমন আছে যে তার পূর্ববর্তী সাত পুরুষের নাম মনে রাখে?! হতে পারে তিনি প্রভূত সম্পত্তি রেখে গিয়েছিলেন! তার সে সম্পত্তি হয়তো আমরা ভোগ করে চলেছি। কিন্তু তবু তার নামটি ও আমাদের স্মরণে নেই। এটাই নিয়ম… এমনটা ই হবে সবার সাথে! 

আপনি ভালো কাজের বিনিময়, ত্যাগের মাত্রা অনুযায়ী পাবেন। যেমন, আমরা অনেকে বলে থাকি যে চাইনিজ প্রোডাক্ট ভালো নয়। কিংবা এগুলো দুই নম্বর পণ্য! কিন্তু এই ভাবনা টি ভুল। আপনি প্রোডাক্ট এর জন্য যতো বেশি মূল্য পরিশোধ করবেন, সেই চাইনিজ প্রোডাক্ট ততো বেশি উন্নত মানের হবে। আপনি যদি এক দিরহাম দিয়ে লাইট ক্রয় করেন, তবে এটি হয়তো সর্বোচ্চ দুই-তিনদিন কাজ করবে। এই গল্পটি শুনেছেন কিনা জানিনা। 

একবার এক ব্যক্তি পাখা প্রতি এক সেন্ট খরচে চার বাক্স পাখা কিনে নিয়ে গেলো। তো, যখন তার স্ত্রী পাখার কার্যকারিতা পরীক্ষা করবার জন্য এটি খুলে বাতাস করতে গেলো- পাখাটি ভেঙে গেলো। এভাবে সবগুলো পাখা ই খোলার পর ভেঙে যাচ্ছিলো। স্ত্রীর কাছ থেকে এ কথা শুনে সেই ব্যক্তি দোকানদারের কাছে গেলো যে এগুলো বিক্রি করছিলো। এবং সে তার অভিযোগ জানালো। দোকানদার সব শুনে তাকে বললো, “আপনি কি নির্দেশনা পড়েছেন যে এই পাখা থেকে কীভাবে বাতাস পেতে হয়?! এক সেন্ট এর পাখা দিয়ে বাতাস পেতে হলে আপনাকে পাখা খুলে দোলালে হবে না। বরং আপনাকে পাখা সামনে রেখে আপনার মাথাটি ই দোলাতে হবে। এখানে এক-দশ দিরহাম প্রতি মূল্যের পাখা রয়েছে। সেগুলো থেকে আপনি যেই সেবা পাবেন, এক সেন্ট খরচ করলে তো আপনি সেরূপ পাবেন না। উত্তম কিছু পেতে হলে আপনাকে সেরূপ মূল্য পরিশোধ করতে হবে”! 

এখন ভেবে দেখুন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা যে কাজগুলো করছি- তাতে কি পরিপূর্ণ আন্তরিকতা,একনিষ্ঠতা রয়েছে? 

আল্লাহ বলেন,

تَبٰرَكَ الَّذِیْ بِیَدِهِ الْمُلْكُ٘ وَ هُوَ عَلٰى كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرُۙ

الَّذِیْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَ الْحَیٰوةَ لِیَبْلُوَكُمْ اَیُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًاؕ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْغَفُوْرُ

অর্থঃ অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি যাঁর হাতে রয়েছে সমগ্র বিশ্ব-জাহানের কর্তৃত্ব। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতা রাখেন।
কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীলও।
[ সূরা মূলক, আয়াতঃ (১-২) ] 

দ্বিতীয় আয়াতটি খেয়াল করে দেখুন! আল্লাহ কি বলেছেন? তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু কেনো? যাতে করে কাজের দিক দিয়ে কে উত্তম তা তিনি পরীক্ষা করতে পারেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন নি, কে কতো বেশি ভালো কাজ করেছে তা যাচাইয়ের জন্য। বরং তিনি কাজ কতোটুকু উত্তম, সেই বিষয়ে আলোকপাত করছেন। কারণ, বেশি বেশি আমল করে কি লাভ রয়েছে, যদি সেই কাজের আউটপুট হয় সেই ১ সেন্ট মূল্যের ফ্যানের মতো? ভালো কাজ করবো আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু অধিক পরিমানে করতে গিয়ে সেই আমলের এখলাস বজায় রাখতে না পারলে তার কতোটা মূল্য রয়েছে? যেটা আমাদের জন্য ফরয, তা তো আবশ্যক ই। কিন্তু যেই আমলগুলো আমরা অতিরিক্ত করি, সেক্ষেত্রে এ বিষয়টি খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা তখন যেনো পরিমাণের চাইতে আমলের ইখলাস বা আন্তরিকতা নিয়ে বেশি চিন্তা করি। 

আমরা যদি সম্পূর্ণ কোরআন মাজীদ এক মাসে অর্থসহ, বুঝে বুঝে পড়ে শেষ করি এবং নিজ জীবন এর তাৎপর্য বুঝে তা প্র‍য়োগে সমর্থ হই, তবে আমার এ কাজ- প্রতি তিন দিনে কোরআন খতম করে মানুষের কাছে বলে বেড়ানো আমল অপেক্ষা অনেক বেশি উত্তম। আপনি যদি অনেক বেশি আমল, ইখলাসের সাথে সম্পন্ন করতে পারেন, সেটি অবশ্য ই সর্বোত্তম! কিন্তু যদি অধিক আমল করতে অসমর্থ হন, তবে ইন শা আল্লাহ আপনার আমলের ইখলাস ই আমলকে পরিপূর্ণতা দান করতে সক্ষম হবে।

এভাবেই নিজেকে আখিরাতের জীবনের জন্য প্রস্তুত করে ফেলতে হবে। হতে পারে, আপনার জীবনের একেবারে শেষ মূহুর্তে পড়া নামাজটি ই আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় হয়েছে এবং তিনি তা কবুল করেছেন। আমরা নামাজে অলসতা করি। ভাবি, আসর আদায় করার জন্য এখনো কিছু সময় হাতে আছে; আমি বরং হাতের কাজ টি শেষ করে নিই। কিন্তু এমনটি কখনোই করা যাবে না। আমরা সবসময় ই বলে থাকি, 
“ নামাজকে বলো না কাজ আছে, কাজকে বলো নামাজ আছে। ”

মাঝে মাঝে আমরা পুরুষেরা বাড়ি ফিরেই খাবার দেবার জন্য হুংকার দিয়ে উঠি। দেরি হলে গলা চড়িয়ে কথা বলি। ওদিকে হয়তো আমার স্ত্রী সালাতুল আসরের নামাজ আদায়ে ব্যস্ত। তিনি তার জান্নাত অর্জনের প্রচেষ্টা করছেন। যান, এবং নিজে একটি ডিম ভেজে হলে ও খান। এতেই অনেক বারাকাহ আসবে। বোনেরা, রান্নার জন্য নিজের নামাযে বিলম্ব করবেন না। কখনোই না। কারণ, এটি ই আপনার জীবনের শেষ নামাজ হতে পারে! হয়তো এই নামাজটি ই আপনাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে। তাই কোনোভাবেই নিজের নামাজের চাইতে অন্য কোন কাজকে বেশি গুরুত্ব দিবেন না। ছাড় দেবার কোনো ই সুযোগ নেই। আল্লাহ আমাদের জন্য সবকিছু সহজ করুন। 

আখিরাতের প্রস্তুতি আমাদের মানসপটে এমনভাবে গেঁথে নিতে হবে যেনো তা সর্বদা আমাদের স্মরণে থাকে। আমরা বর্তমানে কি হচ্ছে, তা নিয়ে বড়োই চিন্তায় পড়ে থাকি, কিন্তু সামনে কি হতে পারে তা নিয়ে আমরা আজ গাফেল! আল্লাহ আমাদের বলেছেন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে। আমরা যেনো বর্তমানের সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে আখিরাতের রসদ যোগাতে পারি, এটা ই হবে আমাদের প্রচেষ্টা! 
আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।
আমীন!! 

।। থাকতে সময়, প্রস্তুতি নাও..।।
.
.
🎬মূলঃ মুফতি মেংক
✍️ভাবানুবাদঃ সাবিহা সাবা

#FEAR_ALLAH

No comments:

Post a Comment

মহিলাদের মসজিদে গমন : একটি পর্যালোচনা

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এ...